কক্সবাজারের উখিয়ায় বাংলাদেশ-মিয়ানমার মৈত্রী সড়ক এলাকায় মেলার নামে প্রকাশ্যে জুয়ার আসর বসানোর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে বিভিন্ন ধরনের জুয়া খেলা চলে। একইসঙ্গে শত শত রোহিঙ্গা যুবকের অবাধ চলাচল ও আড্ডাকে কেন্দ্র করে এলাকায় নিরাপত্তা শঙ্কা বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মৈত্রী সড়কটি একসময় পর্যটক ও ভ্রমণপিপাসুদের কাছে আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে পরিচিত ছিল।
কিন্তু সম্প্রতি সেখানে অস্থায়ী দোকানপাট, মেলার আয়োজন এবং জুয়ার বোর্ড বসানোর কারণে পরিবেশ পরিবর্তন হয়ে গেছে। সন্ধ্যার পর বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে আসা রোহিঙ্গা যুবকদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। রাত গভীর হলেও তাদের চলাচল অব্যাহত থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মৈত্রী সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে রাতভর জটলা, উচ্চ শব্দে গান-বাজনা এবং সন্দেহজনক ব্যক্তিদের আনাগোনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা সাধারণ মানুষও অস্বস্তি বোধ করছেন। অনেকেই দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উখিয়া ও ঘুমধুম সীমান্তঘেঁষা এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই রোহিঙ্গা সংকটের কারণে স্পর্শকাতর হিসেবে বিবেচিত। অতীতেও মৈত্রী সড়ক ও আশপাশের এলাকায় রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান পরিচালনার ঘটনা রয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, মেলার নামে যদি অবৈধ জুয়া পরিচালিত হয়ে থাকে, তাহলে তা বন্ধে দ্রুত অভিযান চালানো প্রয়োজন।
[caption id="attachment_178479" align="alignnone" width="300"]
রাতেও থাকে রোহিঙ্গাদের ঢল[/caption]
একইসঙ্গে সীমান্তসংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে নজরদারি বাড়িয়ে অবাধ চলাচল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্যের জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ-মিয়ানমার মৈত্রী সড়কটি দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে সামনে রেখে নির্মিত হলেও বর্তমানে এটি রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকার কাছাকাছি অবস্থানের কারণে বিভিন্ন নিরাপত্তা ইস্যুতে আলোচনায় রয়েছে