
আন্দামান ও বঙ্গোপসাগরে ২০২৫ সালে প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে বা নিখোঁজ হয়েছে। এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। প্রতিবেদনে বলা হয়, এ বছরের জানুয়ারি থেকে ১৩ এপ্রিলের মধ্যে ২৮০০ জনের বেশি রোহিঙ্গা ইন্দোনেশিয়া বা মালয়েশিয়ার উদ্দেশে বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রা করেছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রা নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য দিয়েছে জাতিসংঘ। শুক্রবার সংস্থার শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সাল ছিল সমুদ্রপথে রোহিঙ্গাদের জন্য ইতিহাসের সবচেয়ে মারাত্মক ও প্রাণঘাতী বছর।
ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র বাবর বালোচ বলেন, ‘২০২৫ সালে আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা নিখোঁজ বা মৃত বলে জানা গেছে। যা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সমুদ্রপথে চলাচলের ইতিহাসে এটিকে সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ওই বছর সাড়ে ছয় হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বিপজ্জনক সমুদ্রপথ পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেছিল, যাদের মধ্যে প্রতি সাতজনের একজন নিখোঁজ বা মারা গেছে।’
এ বছরও মৃত্যুর মিছিল অব্যাহত রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। সংস্থার তথ্য অনুসারে, এ বছরের জানুয়ারি থেকে ১৩ এপ্রিলের মধ্যে ২৮০০ জনের বেশি রোহিঙ্গা বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রা করেছেন।
এ ছাড়া সম্প্রতি টেকনাফ থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ২৮০ যাত্রী নিয়ে রওনা হওয়া ট্রলার ডুবে এখনও ২৫০ জন নিখোঁজ রয়েছে। বিশ্বব্যাপী শরণার্থী ও অভিবাসীদের সমুদ্রযাত্রার প্রধান রুটগুলোর মধ্যে আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে বর্তমানে মৃত্যুর হার সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে ইউএনএইচসিআর।
বাবর বালোচ আরও বলেন, ‘পাচার, শোষণ এবং সমুদ্রে মৃত্যুসহ চরম বিপদ সত্ত্বেও হাজার হাজার রোহিঙ্গা এই যাত্রা অব্যাহত রেখেছে। প্রায়শই অতিরিক্ত ভিড়ে ঠাসা ও সমুদ্রযাত্রার অযোগ্য নৌকাগুলো বাংলাদেশের কক্সবাজার অথবা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে ইন্দোনেশিয়া বা মালয়েশিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করে।’
সমুদ্র পাড়ি দেওয়া রোহিঙ্গাদের অর্ধেকের বেশি নারী ও শিশু। জীবিত উদ্ধার রোহিঙ্গাদের বর্তমানে চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা দিচ্ছে জাতিসংঘ।