শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
বন্যা ঝুঁকিতে ৭৫ হাজার মানুষের পাশে ডব্লিউএফপি
প্রকাশিত - জুলাই ১২, ২০২৬ ২:১০ পিএম

পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান জেলায় বন্যার ঝুঁকিতে থাকা মানুষের জন্য আগাম সহায়তা (Anticipatory Action-AA) এবং দুর্যোগ-সংবেদনশীল সামাজিক সুরক্ষা (Shock-Responsive Social Protection-SRSP) কর্মসূচি চালু করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)।
ডব্লিউএফপির আগাম সহায়তা কর্মসূচির আওতায় আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং পূর্বনির্ধারিত সূচকের ভিত্তিতে দুর্যোগ আঘাত হানার আগেই মানবিক সহযোগিতা পৌঁছে দেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে, বন্যার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর কাছে মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে ৫,০০০ টাকা করে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি, ডব্লিউএফপি তার দুর্যোগ-সংবেদনশীল সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমও চালু করেছে, যার আওতায় সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে জরুরি নগদ সহায়তা (টপ-আপ) প্রদান করা হয়েছে।
ডব্লিউএফপি-র সহযোগী সংস্থা বলিপাড়া নারী কল্যাণ সমিতি (বিএনকেএস)-এর মাধ্যমে বাস্তবায়িত এই যৌথ উদ্যোগের আওতায় বান্দরবান সদর ও লামা উপজেলায় সর্বমোট ১৫,৬০০-রও বেশি পরিবার (৭৫,০০০ মানুষ) এই নগদ সহায়তা পেয়েছেন।
টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী কয়েক দিন ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে, ফলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ডব্লিউএফপির বাংলাদেশ প্রতিনিধি ও কান্ট্রি ডিরেক্টর কোকো উশিয়ামা বলেন, “বাংলাদেশে জলবায়ুজনিত দুর্যোগের ঘনত্ব ও তীব্রতা বাড়ছে। তাই দুর্যোগের আগেই পদক্ষেপ নেওয়া এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বন্যার সবচেয়ে খারাপ প্রভাব পড়ার আগেই সহযোগিতা পৌঁছে দিয়ে আমরা পরিবারগুলোকে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, জীবিকা ও সম্পদ রক্ষা করতে সহায়তা করছি। একই সঙ্গে জাতীয় সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকরভাবে ব্যবহার করে সংকটের সময় ব্যাপক পরিসরে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের কাছে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।”
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের অন্যতম দেশ বাংলাদেশ। ঘন ঘন ও তীব্র বন্যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো পার্বত্য চট্টগ্রামেও মানুষের জীবন, জীবিকা ও খাদ্য নিরাপত্তার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশ সরকারের নেতৃত্বে এবং বিভিন্ন অংশীদারদের সহায়তায় ডব্লিউএফপি দেশে আগাম সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে। ডব্লিউএফপি ও এর অংশীদারদের গবেষণায় দেখা গেছে, আগাম সহায়তায় প্রতি ১ মার্কিন ডলার বিনিয়োগে দুর্যোগ-পরবর্তী প্রচলিত জরুরি সহায়তার তুলনায় সর্বোচ্চ ৭ মার্কিন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো এবং অতিরিক্ত সুফল অর্জন করা সম্ভব।
একই সঙ্গে, জলবায়ুজনিত দুর্যোগ মোকাবিলায় জাতীয় সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও কার্যকর ও দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে ডব্লিউএফপি। দুর্যোগ-সংবেদনশীল সামাজিক সুরক্ষা (এসআরএসপি) ব্যবস্থার মাধ্যমে জরুরি পরিস্থিতিতে বিদ্যমান সরকারি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে দ্রুত সম্প্রসারণ করে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর কাছে সময়মতো সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়, যাতে তারা আরও গভীর সংকটে পতিত না হয়।
Copyright © 2026 UkhiyaNews.Com. All rights reserved.