কক্সবাজারের উখিয়ায় মজলুম ও নির্যাতিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দীর্ঘদিনের বৈষম্যের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যেই নিজের সামাজিক ও রাজনৈতিক পথচলার কথা জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত কক্সবাজার ৪- উখিয়া টেকনাফের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমেদ আনোয়ারী।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের ফলিয়াপাড়া এলাকায় আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
নুর আহমেদ আনোয়ারী বলেন, গত প্রায় সতের মাস ধরে এই এলাকার সাধারণ মানুষ জুলুম, অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছে। রাজনৈতিক বিরোধের জেরে বহু নিরপরাধ মানুষকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন। এই পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে ইনসাফভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা কায়েম করাই তার রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য।
তিনি বলেন, প্রতিশোধের রাজনীতি নয়, বরং ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই তার লক্ষ্য। নিরপরাধ মানুষের অধিকার রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব, অথচ আজ সেই মানুষগুলোকেই মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এটি কখনোই ইনসাফের পথ হতে পারে না।
মতবিনিময় সভায় স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে বিভিন্ন সময়ে তাদের স্বজনরা মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে পড়েছেন। এতে করে সংসার চালানো, চিকিৎসা ও শিক্ষা ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা এই সংকট থেকে উত্তরণে কার্যকর ও ন্যায়ভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণের জন্য নুর আহমেদ আনোয়ারীর প্রতি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠান শেষে বক্তব্যে নুর আহমেদ আনোয়ারী বলেন, ইনসাফ প্রতিষ্ঠা ছাড়া সমাজে প্রকৃত শান্তি ও স্থিতিশীলতা আসতে পারে না। আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে তিনি মজলুম মানুষের পাশে থেকেই সামনে এগিয়ে যেতে চান।
এ সময় তিনি একটি মহলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, ফ্যামেলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ভোট নেওয়ার অপচেষ্টা চলছে। বাস্তবে এটি একটি নতুন ধরনের চাঁদাবাজির ফাঁদ। গরিব ও অসহায় মানুষের নাম তালিকাভুক্ত করার কথা বলে তাদের রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অনৈতিক ও অন্যায়। এ ধরনের প্রতারণামূলক রাজনীতির বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা নুরুল হক, উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুর রহিম, জামায়াত নেতা ও সাংবাদিক নুর মোহাম্মদ সিকদার, এবি পার্টির সভাপতি সৈয়দ হোসেন চৌধুরী, উপজেলা ছাত্রশিবির সভাপতি সাইফুল ইসলামসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ।