কমল দে::
প্রদীপ কাণ্ডের পর ইমেজ সংকটের মুখে নিজেদের অনেকটা গুটিয়ে নিয়েছে কক্সবাজার পুলিশ। বন্ধ রয়েছে অভিযানের পাশাপাশি নিয়মিত টহল। থানাগুলোর প্রধান ফটকও তালা মারা। এমন অভিমত স্থানীয় সুধীজনদের। তবে পুলিশসহ প্রশাসনের দাবি স্বাভাবিক গতিতেই চলছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর কর্মকাণ্ড।
পুলিশের গুলিতে সেনা কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান নিহত হওয়ার ঘটনায় যেন পর্যটন শহর কক্সবাজারের পুরো চিত্রই পাল্টে দিয়েছে। আগে যেখানে প্রতি কয়েকশ গজ অন্তর একটি করে পুলিশ চেক পোষ্ট ছিলো, এখন দিনের ২৪ ঘন্টায় পুরো কক্সবাজার ঘুরেও পুলিশের দেখা পাওয়া যায় না। রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ পর্যন্ত নেই বললে চলে।
কক্সবাজার প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবু তাহের বলেন, সিনহা হত্যার পরে পুলিস প্রশাসনে অনেক স্থবিরতা আমরা দেখতে পাচ্ছি। থানা বেশ কয়েকদিন ধরে তো বন্ধই।
কক্সবাজার পিপলস ফোরাম সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল বলেন, কোন থানায় কার্যক্রম চলছে না। মানুষ ভোগান্তিতে আছে।
আরো পড়ুনঃ টেকনাফ থানার অন্দরমহলে ওসি প্রদীপের টর্চার সেল!
মূলত টেকনাফের সাবেক ওসি প্রদীপকাণ্ডের কারণে পুরো পুলিশ প্রশাসনই ইমেজ সংকটের মুখে পড়েছে। আর পুলিশের এই গুটিয়ে যাওয়ার প্রবণতায় বাড়ছে অপরাধের মাত্রা।
কক্সবাজার বাঁচাও আন্দোলন সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আয়াছুর রহমান বলেন, ছিনতাই ও অন্যান্য অপরাধ বাড়ছে। খুনও হচ্ছে।
তবে অভিযান কিংবা টহল বন্ধ করার কথা অস্বীকার করে পুলিশ সুপারের দাবি, স্বাভাবিক নিয়মেই পুলিশের কাজ চলছে।
পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন বলেন, কাজ কমিয়ে দেয়া এরকম বিষয় নয়। আমাদের স্বাভাবিক যে কার্যক্রম ছিল তাই আছে।
এদিকে আগামী মাস থেকে শুরু হচ্ছে কক্সবাজারের পর্যটন মৌসুম। তাই পর্যটকদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানালেন জেলা প্রশাসক।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, সামনের যে পর্যটন মৌসুম পর্যটকের জন্য নিরাপত্তা নিয়ে আমরা শংকায় আছি।
কক্সবাজার বেড়াতে আসা মানুষের আকর্ষণ থাকে মেরিন ড্রাইভে ভ্রমণ। কিন্তু ৩১ জুলাইয়ের ঘটনার পর থেকে সেখানে দর্শনার্থীদের ভিড় অনেকটা কমে গেছে। সুত্র: সময় টিভি