মৃত্যুর পরও লাখো মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন শাহ সুফি আলহাজ্ব আলীম উদ্দিন ফকির, এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তাঁর জানাজায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁরা বলেছেন, দীর্ঘ জীবনে তিনি মানুষকে সত্য, ন্যায় ও ইসলামের পথে আহ্বান করেছেন। দ্বীনি শিক্ষা বিস্তার, মসজিদ-মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা এবং আলোকিত মানুষ গঠনে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) আছরের নামাজের পর উখিয়ার চাকবৈঠা মাঠে পীরে কামেল শাহ সুফি আলহাজ্ব আলীম উদ্দিন ফকিরের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে পুরো মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। দূর-দূরান্ত থেকে নানা বয়সী মানুষ তাঁকে শেষবারের মতো দেখতে ও জানাজায় অংশ নিতে ছুটে আসেন।
জানাজা-পূর্ব সমাবেশে বক্তারা মরহুম আলীম উদ্দিন ফকিরের দীর্ঘ কর্মময় জীবন, দ্বীনি শিক্ষা বিস্তারে অবদান এবং মানুষের কল্যাণে তাঁর ভূমিকার কথা স্মরণ করেন।
উখিয়া-টেকনাফ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, আজ আমি অকল্পনীয় একজন ধর্মীয় নেতার জানাজায় উপস্থিত হয়েছি। হুজুরে পাক (সা.)-কে তিনি বহুবার স্বপ্নে দেখেছেন। ১০৮ বছরের জীবদ্দশায় তিনি অসংখ্য মসজিদ ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসা থেকে আজ হাজার হাজার আলেম বের হচ্ছেন। আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন।
কক্সবাজার জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা নুর আহমেদ আনোয়ারী বলেন, ‘মরহুম ১০৮ বছর বয়স পেয়েছেন। তিনি সারাজীবন মানুষকে হেদায়েতের পথে আনার চেষ্টা করেছেন।
উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরী বলেন, ‘আমি যতবার তাঁর কাছে গিয়েছি, ততবার তিনি আমাকে ইসলামের পথে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। আজ মনে হচ্ছে, আমি আমার পিতাকে হারিয়েছি। আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নাতের মেহমান হিসেবে কবুল করেন।
উখিয়া উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আবুল ফজল বলেন, ‘আলহাজ্ব আলীম উদ্দিন ফকির পথহারা মানুষকে জাহান্নাম থেকে বাঁচিয়ে জান্নাতের পথ দেখিয়েছেন।’
সাবেক উখিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান শাহ জালাল চৌধুরী বলেন, ‘আমরা একজন মুরব্বিকে হারিয়েছি। ১৯৮০ সালে আমি হুজুরের সঙ্গে হজ্ব করেছিলাম। মরহুম আলীম উদ্দিন সত্যের পথে ছিলেন। তিনি জীবনে ৭৫ বার হজ্ব করেছেন।’
উখিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোলতান মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘হুজুর হালাল ও হারাম চিহ্নিত করে চলতেন। তাঁর জীবন ছিল ইসলামী আদর্শনির্ভর।’
রত্নাপালং ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল কবির চৌধুরী বলেন, ‘আলোকিত মানুষ গঠনে মরহুম আজীবন কাজ করে গেছেন। তাঁর জীবন ও কর্ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয়।’
টাইপালং মাদ্রাসার সুপার আব্দুল করিম বলেন, ‘দ্বীনি শিক্ষা বিস্তারে তিনি অনন্য ভূমিকা পালন করে গেছেন। অসংখ্য মানুষ তাঁর কাছ থেকে দ্বীনের শিক্ষা পেয়েছেন।’
চুনতির পীর নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘আজ তরিকতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ধসে পড়ল। তাঁর চলে যাওয়া দ্বীনি অঙ্গনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।’
মরহুমের খাদেম আব্দুল জব্বার বলেন, ‘মরহুম আবেদগুজার মানুষ ছিলেন। তিনি একজন পরিপূর্ণ মুসলমান হিসেবে জীবন কাটিয়েছেন।’
মাওলানা মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘একজন আলেমের বিদায় মানে একটি জাহানের বিদায়। তাঁর চলে যাওয়ায় যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।’
মরহুমের ছেলে ও খেলাফতপ্রাপ্ত আহমদ হোসেন তাঁর বাবার জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করে বলেন, ‘আল্লাহ যেন আমার বাবাকে উত্তম মোকাম দান করেন। সবাই আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন।’
বক্তারা বলেন, দীর্ঘ জীবনে শাহ সুফি আলহাজ্ব আলীম উদ্দিন ফকির মানুষের কল্যাণ, দ্বীনি শিক্ষা বিস্তার ও ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় কাজ করে গেছেন। তাঁর কাছে এসে বহু মানুষ ইসলামের পথে ফিরে এসেছেন বলে তাঁরা উল্লেখ করেন। মসজিদ-মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা এবং ধর্মীয় শিক্ষার প্রসারে তাঁর ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন বক্তারা।
জানাজা শেষে উপস্থিত মানুষের কণ্ঠে মরহুমের জন্য মাগফিরাতের দোয়া ধ্বনিত হয়। শোকাহত মানুষের চোখেমুখে ছিল প্রিয় পীর ও মুরব্বিকে হারানোর বেদনা। তবে তাঁর দীর্ঘ কর্মময় জীবন, দ্বীনের পথে আহ্বান এবং মানুষের মাঝে রেখে যাওয়া আদর্শ তাঁকে মৃত্যুর পরও মানুষের হৃদয়ে বাঁচিয়ে রাখবে, এমনটাই মনে করছেন জানাজায় অংশ নেওয়া হাজারো মানুষ