কক্সবাজারের উখিয়ায় ২০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়া ব্যবসায়ী ও তার ২ পুত্রকে ঘর থেকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা। ছবি : সংগৃহীত
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় ২০ লাখ টাকার চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় গৃহকর্তা ব্যবসায়ী ও তার ২ পুত্রকে ঘর থেকে তুলে নেওয়ার সময় গ্রামবাসীর বাধায় ২০/২৫ রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।
শনিবার দিবাগত রাত (২৯ মার্চ) সাড়ে ১২টার দিকে পালংখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ভাদিতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে ছুরিকাঘাত ও মারধরে নারীসহ ৫ জন আহত হয়েছেন।
এরমধ্যে আহত আব্দুল মজিদকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার গভীর রাতে ১০-১৫ জনের একটি অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী দল স্থানীয় বাসিন্দা আবদুর রশিদ সওদাগরের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা জোরপূর্বক ঘরে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করে। এসময় তারা ঘরের নারীদেরও মারধর করে।
পালংখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সৈয়দুল বশরের নেতৃত্বে একটি সন্ত্রাসী দল ব্যবসায়ী আবদুর রশিদ সওদাগর ও তার দুই পুত্র এবং ১০ থেকে ১৫ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এ সময় তারা রশিদ সওদাগর ও তার কলেজ পড়ুয়া ছেলে হুমায়ুন রশিদ এবং হারুনুর রশিদকে ঘর থেকে টানাহেঁচড়া করে বের করে। পিতা ও দুই পুত্র কে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় গ্রামবাসী এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা গুলি বর্ষণ করে। এসময় তাদের ছুরিকাঘাতে আবদুল মজিদ নামের এক যুবক আহত হন।
তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী চাল ব্যবসায়ী আবদুর রশিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সন্ত্রাসী দলের নেতা সৈয়দুল বশর ঈদের কয়েকদিন আগে আমার কাছে বিশ লাখ টাকার চাঁদা দাবি করে। টাকা না দেওয়ায় তারা ক্ষুদ্ধ হয়ে আমার ঘরে হানা দিয়ে আমাদের অপহরণ করার চেষ্টা করে।’
তিনি বলেন, ঈদের সময় থেকে বার বার দাবিকৃত চাঁদা দিতে তাকে চাপ দিয়ে যাচ্ছিল সন্ত্রাসীরা। সন্ত্রাসীদের প্রত্যেকের কাছে অস্ত্র রয়েছে।
তার গোটা পরিবার এখন নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। তিনি অভিযোগ নিয়ে উখিয়া থানায় যাচ্ছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গভীর রাতে হঠাৎ গুলির শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গুলির পরপরই সন্ত্রাসীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী কালের কণ্ঠকে ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এলাকায় চাঁদাবাজি ব্যাপকহারে বেড়ে গেছে।
এ বিষয়ে উখিয়া থানার ওসি মুজিবুর রহমান কালের কণ্ঠকে জানান, হামলার বিষয়টি তিনি জেনেছেন। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ পেয়ে তিনি ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান ওসি।