তুষার তুহিন :
ইয়াবা কারবারে জড়িত থাকার দায়ে টেকনাফ উপজেলার ১ টি পৌরসভার ও ৫ টি ইউনিয়নের প্রায় ২৬ জন জনপ্রতিনিধি আতœগোপনে ও কারাগারে রয়েছেন। একারণে স্থবির হয়ে পড়েছে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের ও পৌরসভার স্বাভাবিক কার্যক্রম। সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন জনগন। তবে দ্রুত আসনগুলো শূন্য ঘোষনা করে উপ- নির্বাচন দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে আশার বানি শুনিয়েছেন সংশ্লিষ্ঠরা।
স্থানীয় সরকার নিয়ম অনুযায়ী আসনগুলো ইতিমধ্যে শূন্য হয়ে গেছে এমন অভিমত প্রকাশ করে কক্সবাজার জেলা আদালতের আইনজীবি আয়াছুর রহমান বলেন, স্থানীয় সরকারের নিয়ম অনুযায়ী পর পর ৩ টি বৈঠকে অনুপস্থিত থাকলে এই পদটি শূণ্য হয়। এছাড়া কোন অবৈধ কারবারে জড়িত ও ফৌজদারি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামী হলেও আসন শূন্য হয়।
টেকনাফ থানা পুলিশ সূত্র জানায়, বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়ে ও আতœসমর্পন করে টেকনাফ উপজেলার ১ টি পৌরসভার ও ৫ টি ইউপির ১৩জন জনপ্রতিনিধি কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম কারাগারে রয়েছেন। এছাড়া ১২ জন জনপ্রতিনিধি আতœগোপনে রয়েছেন। তাছাড়া সম্প্রতি বন্দুকযুদ্ধে ১ জন জনপ্রতিনিধি নিহত হয়েছেন।
পুলিশ ও উপজেলা পরিষদ সূত্র মতে, টেকনাফ পৌরসভার ৫ জন, সাবরাংয়ে ও হ্নীলা ইউপিতে ৫ জন, হোয়াইক্যং ৩ জন, সেন্টমার্টিনে ২ জন,সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সহ ৫ জন জনপ্রতিনিধি দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন ও পৌরসভার কার্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন। সম্প্রতি বন্দুকযুদ্ধে সদর ইউপির এক সদস্য নিহত হওয়ায় সেই আসনটি শূণ্য পড়ে রয়েছে।
এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল হাসান বলেন, ইয়াবা কারবারে সম্পৃক্ত ও ইউপি কার্যালয়ে অনুপস্থিত জনপ্রতিনিধিদের তালিকা তৈরি হচ্ছে। চলতি সপ্তাহে তালিকাটি বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে পাঠানো হবে। সেখানে আসনগুলো শূণ্য ঘোষনা করার সুপারিশ করা হবে। এদিকে পুলিশ,পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে , টেকনাফ পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাহ আলম অস্ত্র ও ইয়াবা মামলায় কক্সবাজার কারাগারে, ৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রেজাউল করিম মানিক ইয়াবা সহ চট্টগ্রামে গ্রেফতার হয়ে সেখানকার কারাগারে রয়েছেন। ৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নুরুল বশর আতœসমর্পণ করে অস্ত্র ও ইয়াবা মামলায় কক্সবাজার কারাগারে। এছাড়া উখিয়া- টেকনাফের সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদির ভাই ও বর্তমান এমপি শাহীন আক্তারের দেবর পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মৌলভী মুজিবুর রহমান ও ৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মনিরুজামান দীর্ঘদিন ধরে পলাতক রয়েছেন।
টেকনাফ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাফর আলমের ছেলে সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহাজাহান মিয়া ও ২নং ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে পলাতক রয়েছেন। তবে একই ইউপির ১নং ওয়ার্ডের সদস্য ওমর ফারুক , ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য আজিম উল্লাহ ও ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য এনামুল হক এনাম অস্ত্র ও ইয়াবা মামলায় কক্সবাজার কারাগারে রয়েছেন। এছাড়া একই ইউপির ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল হামিদ বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। সাবরাং ইউপির ১নং ওয়ার্ডের সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন দানু, ৩নং ওয়ার্ডের সদস্য জাফর আলম, ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য শামসু আলম, ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য রেজাউল করিম রেজু অস্ত্র ও ইয়াবা মামলায় কারাগারে থাকলেও একই ইউপির ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য মাহামুদুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে পলাতক রয়েছেন।
হ্নীলা ইউপির ৩নং ওয়ার্ডের সদস্য সাজাপ্রাপ্ত আসামী শামসুল আলম বাবুল আপিলে বের হয়ে এসে গা ঢাকা দিয়েছেন। এছাড়া ৫ নং ওয়ার্ডের সদস্য জামাল উদ্দিন ঈদের পর ইয়াবা সহ শহর থেকে গ্রেফতার হয়ে কক্সবাজার কারাগারে রয়েছেন। এর আগে ৭নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. জামাল হোসেন এবং ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. নুরুল হুদা আতœসমর্পণ করেন। এছাড়া একই ইউপির ৯নং ওয়ার্ডের মোহাম্মদ আলী আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখকে ফাকি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক রয়েছেন।
হোয়াইক্যং ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান (১) রাকিব আহমদ, প্যানেল চেয়ারম্যান ২ সিরাজুল মোস্তফা চৌধুরী লালু পলাতক থাকলেও আতœসমর্পন করেছেন একই ইউপির ৬ নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. শাহআলম।
এছাড়া সেন্টমার্টিন ইউপির ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য আবু বক্কর ও ৯ নং ওয়ার্ড সদস্য আবদুর রউফ অস্ত্র ও ইয়াবা মামলায় কারাগারে রয়েছেন।
এবিষয়ে টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, বাহারছাড়া ছাড়া টেকনাফ পৌরসভা ও প্রতিটি ইউনিয়ন জনপ্রতিনিধি শূণ্য হয়ে পড়েছে। সর্বনি¤œ নয়মাস থেকে দেড়বছর পর্যন্ত ২৫/৩০ জন জনপ্রতিনিধি হয় কারাগারে না হয় পলাতক রয়েছেন। পলাতকদের ধরতে পুলিশের অভিযান জোরালো করা হচ্ছে।
এদিকে গত শুক্রবার কক্সবাজার সার্কিট হাউজের এক বৈঠকে মন্ত্রী পরিষদ সচিব শফিউল আলমের উপস্থিতিতে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নান পলাতক ও কারাগারে থাকা ও নিহত জনপ্রতিনিধিদের আসনগুলো শূণ্য ঘোষনা করার কার্যক্রম দ্রুত করার তাগিদ দেন। সেদিন তিনি টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দীর্ঘদিন ধরে ইউপিতে অনুপস্থিত রয়েছে এমন জনপ্রতিনিধিদের তালিকা ৩ দিনের মধ্যে তাঁর কার্যালয়ে পাঠানোর আদেশ দেন।