নেপালের নুয়াকোট জেলার দেবীঘাট এলাকায় ভয়াবহ বন্যায় পুরো একটি গ্রাম প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে আশপাশের বেশিরভাগ স্থাপনা বিলীন হয়ে গেলেও অলৌকিকভাবে অক্ষত রয়েছে স্থানীয় একটি মসজিদ। চারপাশের ধ্বংসযজ্ঞের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা এই মসজিদটি এখন সবার মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
মসজিদের ভেতরে বন্যার পানি প্রবেশ করেনি। স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনামতে, প্রবল বেগে ধেয়ে আসা বন্যার পানিতে দেবীঘাটের বেশিরভাগ ঘরবাড়ি পুরোপুরি ভেসে গেছে। তবে মসজিদের পাশেই থাকা ১০ ইঞ্চির একটি মজবুত পাথরের দেয়াল ঢাল হিসেবে কাজ করেছে। এই দেয়ালটি পানির প্রবল স্রোতকে অনেকটাই আটকে দেওয়ায় মসজিদটি পুরোপুরি ভেসে যাওয়া থেকে রক্ষা পায়। তবে পানির প্রচণ্ড ধাক্কায় মসজিদের মূল পিলারগুলোতে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে, যার কারণে ভবনটি যেকোনো সময় ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
মসজিদের পেশ ইমাম জাহাঙ্গীর আলম সেই ভয়াবহ মুহূর্তের বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি জানান, ঘটনার দিন হঠাৎ করেই বাইরে মানুষের চিৎকার ও পানির বিকট শব্দ শুনতে পান তারা। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে তিনি দ্রুত পাহাড়ের দিকে ছুটে যান এবং সেখানে আশ্রয় নিয়ে প্রাণে বাঁচেন। তিনি জানান, এমন ভয়াবহ বন্যা তিনি এর আগে কখনো দেখেননি। নিচু এলাকায় থাকা সত্ত্বেও মসজিদের ভেতরে এক ফোঁটা পানিও না ঢোকাকে তিনি সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমত বলে উল্লেখ করেছেন।
দেবীঘাট অঞ্চলে বর্তমানে প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ জন মুসলিম বসবাস করেন। বংশপরম্পরায় তারা দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছেন। এমন আকস্মিক ও ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর স্থানীয় বাসিন্দারা এখন চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মাঝে দিন পার করছেন