নিউজ ডেস্ক::
চট্টগ্রামের সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকাণ্ডের তিন বছর পূর্ণ হয়েছে গত ৫ মে। কিন্তু চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা বা মাস্টারমাইন্ড সম্পর্কে এখনো কিছু জানা যায়নি। সেই সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতা হিসাবে চিহ্নিত পলাতক আসামিরও কোনো সন্ধান মিলেনি। তবে পুলিশ বলছে, তদন্ত চলছে, অভিযোগপত্রও হয়ে যাবে শিঘ্রই।
তদন্তকারী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলছেন, এই মামলায় গ্রেফতার দু’জনের স্বীকারোক্তিতে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি অংশ নেওয়া মুছা ও কালু নামের দু’জনকে মূল পরিকল্পনাকারী হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের ধরতে পারলে সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মিতুর স্বামী সাবেক এসপি বাবুল আক্তারকে এখনও দায়ী করে যাচ্ছেন মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন। চট্টগ্রাম মহানগরীতে ২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে নগরীর জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় খুন হন চট্টগ্রামে বিভিন্ন সময় জঙ্গিবিরোধী অভিযানের নেতৃত্ব দিয়ে আলোচিত হয়ে উঠা পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু।
এই ঘটনার কিছুদিন আগে পদোন্নতি পেয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে যোগ দিয়ে ঘটনার সময় ঢাকায় অবস্থান করছিলেন বাবুল আক্তার। তার আগে তিনি চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন। হত্যাকাণ্ডের পর নগরীর পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাত পরিচয় ঘাতকদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন বাবুল আক্তার। পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের জঙ্গিবিরোধী অভিযানের কারণে তার স্ত্রীকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে এরকম সন্দেহকে সামনে নিয়ে প্রথমে তদন্ত শুরু করা হলেও কিছুদিন যেতে না যেতেই এই তদন্ত প্রক্রিয়া থেকে পুলিশ সরে আসে।
হত্যাকাণ্ডের ১৯ দিন পর ঐ বছরের ২৪ জুন রাতে ঢাকার বনশ্রীর শ্বশুরের বাসা থেকে বাবুল আক্তারকে ঢাকা গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে নিয়ে প্রায় ১৪ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে বিষয়টিকে নিয়ে চারদিকে নানা ধরনের জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়। এর কিছুদিন পরই পুলিশের চাকরি ছেড়ে দেন বাবুল আক্তার। সামগ্রিকভাবে এই হত্যাকাণ্ডের নাটকীয়তার এইটুকু পর্যন্ত দৃশ্যমান থাকলেও গত তিন বছরে তদন্ত প্রক্রিয়ায় কী কারণে মিতুকে হত্যা করা হয়েছে এই প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর খুঁজে বের করতে পারেনি পুলিশ।