কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের হাজিরপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় কণ্ঠশিল্পী মোহাম্মদ ইদ্রিসকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। র্যাব-১৫ এর অভিযানে তার বাড়ি থেকে একটি প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতরে লুকিয়ে রাখা ১ লাখ ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার এবং তার স্ত্রী শাকিলা শারমিন রেশমী (২২) গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে পলাতক রয়েছেন ইদ্রিস। একই সঙ্গে তার সম্পদের উৎস, সম্ভাব্য মাদক নেটওয়ার্ক ও সহযোগীদের নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
র্যাব-১৫ জানায়, গত ৬ জুলাই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাজিরপাড়ায় ইদ্রিসের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। র্যাব সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে ইদ্রিস পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে তার স্ত্রীকে আটক করা হয়। পরে বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতরে অভিনব কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১ লাখ ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। র্যাবের ভাষ্য, উদ্ধার হওয়া ইয়াবার বাজারমূল্য কোটি টাকারও বেশি। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, কয়েক বছর আগেও ইদ্রিসের কোনো দৃশ্যমান ব্যবসা বা স্থায়ী আয়ের উৎস ছিল না। অথচ অল্প সময়ের ব্যবধানে তিনি বিলাসবহুল জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন। হাজিরপাড়ায় প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাড়ি, একাধিক ব্যক্তিগত গাড়ি এবং কক্সবাজারের খুরুস্কুল এলাকায় জমি কিনে নতুন বাড়ি নির্মাণের প্রস্তুতির খবর নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা রয়েছে। তার নামে-বেনামে আরও সম্পদ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। তবে এসব সম্পদের বিষয়ে সরকারি কোনো তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশিত হয়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক বাসিন্দা জানান, ইদ্রিস অতীতেও মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন। এরপরও তিনি পুনরায় মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন বলে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে। ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চান না বলেও জানান তারা।
অনুসন্ধানে স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, ইদ্রিসের বাড়িটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তকেন্দ্রিক একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মাদক পাচারের অভিযোগ ছিল। স্থানীয়দের ভাষ্য, কুতুপালং এলাকায় বসবাসকারী তার দুই ভাগিনা ক্যাম্পসংলগ্ন বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করতেন বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধেও অল্প সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং স্বাধীনভাবে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
র্যাব-১৫ তাদের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সীমান্ত ও উপকূলীয় এলাকাকে ব্যবহার করে পরিচালিত মাদক চক্রের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পলাতক ইদ্রিসসহ চক্রের অন্যান্য সদস্যকে গ্রেপ্তার এবং মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, শুধু ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় মামলা করলেই হবে না; ইদ্রিস, তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও আত্মীয়স্বজনের সম্পদের উৎস, সম্ভাব্য অর্থপাচার এবং সীমান্তকেন্দ্রিক মাদক নেটওয়ার্কের বিষয়ে দুদক, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত তদন্ত প্রয়োজন। তাদের মতে, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই বেরিয়ে আসবে এই নেটওয়ার্কের প্রকৃত চিত্র।