চলতি মৌসুমে টেকনাফে সুপারীর বাম্পার ফলন হয়েছে। সঠিক সময়ে বৃষ্টি, অনুকুল আবহাওয়া ও সুষম সারের ব্যবহারের কারণে অন্য বছরের চেয়ে এ বছর সুপারীর ফলন অনেকটা বেড়েছে বলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্র জানিয়েছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ সৃষ্টি না হওয়ায় এবছর কৃষকরা উপযুক্ত সময়ে সুপারী সংগ্রহ করতে শুরু করেছেন। যথাপোযুক্ত সুপারীর মূল্য পাবেন এমন খবরে কৃষকদের মাঝে বাড়তি আনন্দ দেখা দিয়েছে। টেকনাফের অর্থকরী ফসল; সুপারী চাষ থেকে কৃষকরা অধিক লাভবান হচ্ছেন দেখে আগামী মৌসুম থেকে অনেকে নতুন করে সুপারী চাষের কথা ভাবছেন বলে কৃষি সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
কৃষি অফিস সুত্রে জানাগেছে, টেকনাফের সবরাং ইউনিয়নে বাণিজ্যিকভাবে সর্বোচ্চ সুপারীর চাষ করা হয়। এই ইউনিয়নে ৩শ ৭০হেক্টর জমিতে সুপারীর বাগান সৃজিত রয়েছে। পাশাপাশি উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নে ৩শ ৬০হেক্টর টেকনাফ সদও ইউনিয়নে ৩শ ৫০হেক্টর, হ্নীলা ইউনিয়নে ৪০ হেক্টর, হোয়াইক্যং ইউনিয়নে ৫০ হেক্টর ও প্রবালদ্বীপ সেন্ট মার্টিন দ্বীপ ইউনিয়নে ১০ হেক্টর জমিতে সুপারীর আবাদ করা হয়েছে।
কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি মৌসুমে ১১হাজার ২শ ৪০মেট্রিক টন সুপারী উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিগত মৌসুমে টেকনাফ উপজেলায় সৃজিত ১২শ ৮০হেক্টর বাগান থেকে ১০হাজার ২শ ৪০ মেট্রিক টন সুপারী উৎপাদন হয়। ওই মৌসুমে (গত বছর) কৃষকরা প্রায় সাড়ে ১২কোটি টাকা আয় করেন। এবছর আরো বেশী টাকা আয় করবেন এমনটি মনে করছেন সুপারী ব্যবসায় সম্পৃক্ত সংশ্লিষ্ট লোকজন। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, টেকনাফে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত সুপারী এখানকার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়। এমনকি বিদেশেও রপ্তানী হচ্ছে বলে সুপারী ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
সুপারী ৬মাসী অর্থকরি ফসল। বর্তমানে এই সুপারী বারো মাসি ফসল হিসেবেও পরিগণিত হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, বারো মাসি সুপারী গাছ রয়েছে। ওই সুপারী গাছ রোপন করলেই বাণিজ্যিকভাবে বছরজুড়ে গাছ থেকে সুপারী সংগ্রহ করা যাবে।
কৃষকরা জানায়, সাধারণত: মে-জুন মাসে সুপারী গাছে মুকুল ধরে। আর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে সুপারী পরিপক্ক হয়ে থাকে। পরবর্তীতে পরিপক্ক সুপারী কৃষকরা গাছ থেকে সংগ্রহ করেন। সংগ্রহের পর কেউ বাজারে বিক্রি করেন। কেউ বা বিশেষ পদ্ধতিতে বাসা-বাড়ীতে সংরক্ষণ করেন। এদিকে বাসা বাড়ীতে সংরক্ষণ করা সুপারীকে স্থানীয়রা ভিজা সুপারী বলে থাকেন। ওই সুপারী অত্যন্ত মজা এবং চাহিদা সম্পন্ন। কাঁচা সুপারীর মতো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া না থাকায় ভিজা সুপারীর কদর একটু বেশী। অফ সিজনে তথা বর্ষা মৌসুমে ভিজা সুপারী অধিক মূল্যে বিক্রি করেন চাষী বা সংরক্ষণকারীরা।
কৃষকরা জানায়, টেকনাফে ভিজা সুপারী বিক্রি করে প্রতিবছর অনেকে বাড়তি টাকা আয় করেন। ভর মৌসুমে কিছু কিছু ব্যবসায়ী সুপারী কিনে বিশেষ পদ্ধতিতে তা সংরক্ষণ করে রাখেন। অফ সিজনে সংরক্ষণ করা সুপারী চড়া দামে বিক্রি করে থাকেন। স্থানীয়দের অনেকে সুপারী সংরক্ষণ করেই লাখ লাখ টাকা আয় করছেন বলে জানাগেছে।
উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো: শফিউল আলম জানান, টেকনাফে ১২শ ৮০হেক্টর জমিতে সুপারী চাষ করা হয়েছে। তিনি আরো জানিয়েছেন, উল্লেখিত জমিতে সৃজিত বাগান থেকে গত মৌসুমে প্রায় ১০হাজার ২শ ৪০মেট্রিক টন সুপারী উৎপাদন হয়। চলতি মৌসুমে ১১হাজার ২শ ৪০ মেট্রিক টন সুপারী উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও আরো বেশী সুপারী উৎপাদন হবে। কৃষকরাও বেশী লাভবান হবেন।
মাঠ পর্যায়ে কর্মরত উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও চাষীদের মাঝে নিয়মিত সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টার কারণে সুপারীর বাম্পার ফলন হয়েছে জানিয়ে টেকনাফ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, সুপারীর ফলন বাড়াতে সার ব্যবস্থাপনা ও রোগবালাই সর্ম্পকে কৃষকদের হাতে কলমে মাঠে গিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আগামীতেও সুপারীর বাম্পার ফলন হবে এমন প্রত্যাশার কথা জানিয়ে এই কৃষি কর্মকর্তা আরো বলেন,কৃষকদের মাঝে কারিগরী প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি কৃষকরাও যাতে ন্যায্য মূল্য পান সে বিষয়ে কৃষি বিভাগ কাজ করবেন বলে জানান।