টেকনাফে এক স্কুল শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অস্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ছাত্রদের চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষিকার এমন কর্মকাণ্ডে অভিভাবকদের মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা পানখালী স্কুলে কর্মরত ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
জানা যায়, ১৯ এপ্রিল (রোববার) দুপুরে উপজেলার হ্নীলা পানখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা তাসনিমা কাঁচি দিয়ে একে একে স্কুলের সব ছাত্রদের চুল কেটে দেন। শিক্ষিকার এমন অস্বাভাবিক আচরণে অভিভাবক এবং স্কুলপড়ুয়াদের মধ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। আব্দুল্লাহ, শাহিন, জোবায়ের, জিসান, ওয়াহিদ, রায়হান এবং সোহেলসহ অনেকে ম্যাডামের এ ধরনের আচরণে হতবাক হয়ে পড়েছেন।
অভিভাবক ফরিদ আলম জানান, “মাত্র দুই দিন আগেই ছেলেকে সুন্দরভাবে চুল কেটে দিয়েছি। কোনো কারণ ছাড়াই স্কুলের তাসনিমা ম্যাডাম আবার চুল কেটে দিয়েছেন। কাটলেন ভালো কথা; কিন্তু এমন অদ্ভুতভাবে চুল কেটে দেবেন কেন?” তিনি উক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
কামরুল ইসলাম নামের অপর এক অভিভাবক চরম অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, “আমরা নিয়মিত ছেলেদের চুল কেটে দিয়ে স্কুলে পাঠাই। এখনো চুল কাটার সময় হয়নি। অথচ তাসনিমা ম্যাডাম এমনভাবে চুল কেটে দিয়েছেন, যেন এটি কোনো শাস্তিমূলক বা নিজের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।” তিনি আরও বলেন, “চুল কাটার পর থেকে অনেক শিশুর চোখে-মুখে আতঙ্ক দেখা যাচ্ছে। অনেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে।” তাই তিনি ও অন্যান্য অভিভাবক এ ঘটনার প্রতিবাদ ও তীব্র নিন্দা জানান।
প্রধান শিক্ষক মাস্টার মুহাম্মদ মাহমুদুর রহমানের মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি, ফলে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান আরজু বলেন, “চুল কাটার দায়িত্ব স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকার নয়। এমনটি হয়ে থাকলে তা অবশ্যই অন্যায়। বিষয়টি তদন্ত করে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”