টেকনাফে একাধিক মামলার পলাতক আসামি হয়েও দেলোয়ার নামে এক ব্যক্তি প্রকাশ্যে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে ঘোরাফেরা করছেন—এমন অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, টেকনাফ সদরের উত্তর লম্বরী এলাকার খুল্যা মিয়ার পুত্র দেলোয়ার বিগত সরকারের আমলে নিজেকে ছাত্রলীগের নেতা পরিচয় দিতেন। একই সঙ্গে তৎকালীন টেকনাফ থানার ওসি হিসেবে আলোচিত প্রদীপ কুমার দাশ-এর ঘনিষ্ঠজন দাবি করে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মিথ্যা মামলায় জড়ানো ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে বিপুল অর্থ আদায় করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, এসআই মশিউরের হয়ে টাকা উত্তোলনের দায়িত্বেও ছিলেন দেলোয়ার। পুলিশি প্রভাব খাটিয়ে ইয়াবা ও মামলা বাণিজ্যের মাধ্যমে তিনি প্রায় ২০ কোটি টাকার মালিক হয়েছেন বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ। তার এসব কর্মকাণ্ডে শত শত মানুষ হয়রানির শিকার হয়ে মিথ্যা মামলার আসামি হয়েছেন বলে জানা যায়।
গত ৫ আগস্টের পর দেলোয়ারের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়। কিন্তু এরপরও তিনি এলাকায় প্রকাশ্যে বিচরণ করছেন। বর্তমানে নিজেকে বিএনপি-ঘনিষ্ঠ পরিচয় দিয়ে টেকনাফ ভূমি অফিসসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি বিএনপির এক নেতার নাম ব্যবহার করে কর্মকর্তাদের ওপর প্রভাব খাটানোর চেষ্টাও করছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন—দেলোয়ারের এমন কী শক্তি, যে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তার পরিচয়ও বদলে যায়, কিন্তু প্রভাব কমে না? বিগত ১৫-১৬ বছর ধরে দখলবাজি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে আলোচিত এই ব্যক্তির অধ্যায়ের অবসান হবে—এমন আশা করলেও বাস্তবে তার কার্যক্রম বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ করেন অনেকে।
স্থানীয়রা উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, রাজনৈতিক পরিচয় বদলে একই অপকর্ম চালিয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ না হলে সাধারণ মানুষ কখনোই স্বস্তি পাবে না।