“ইউনিয়ন বিভক্তি হলে আমরণ অনশন করবো” “বর্গকিলোমিটারের অজুহাতে ইউনিয়ন বিভক্তি চাই না” “ইউনিয়ন বিভক্তি হলে মানুষ কষ্ট পাবে” “নাগরিক সেবা নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়বে” “আমরা ইউনিয়ন বিভক্তি চাই না” হোয়াইক্যং ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনসাধারণের পক্ষ থেকে উপরোল্লেখিত নানান শ্লোগান সম্বলিত প্লে-কার্ড, পেষ্টুন ও ব্যানার নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে জড়ো হয়ে ইউনিয়ন বিভক্তির প্রচেষ্টার প্রতিবাদ জানিয়েছেন হোয়াইক্যংয়ের সাধারণ মানুষ। খেটে খাওয়া এসব মানুষের দাবী তারা কিছুতেই হোয়াইক্যং মডেল ইউনিয়নকে দু’ভাগে ভাগ করতে দিবেন না। ভাগ করলে তারা আমরণ অনশন করবেন বলে জানান। পরিস্কার ভাষায় তারা বলে দিয়েছেন, জনগণের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে ইউনিয়ন বিভক্ত করা হঠকারী সিদ্ধান্ত। কাদের স্বার্থে এসব করা হচ্ছে তাদের কাছে বিষয়টি আয়নার মতোই পরিস্কার; ইউনিয়ন পরিষদের চত্ত্বরে প্লে-কার্ড, পেষ্টুন ও ব্যানার হাতে জড়ো হওয়া এসব সাধারণ মানুষের চোখে মুখে দেখা গেছে চরম আসন্তোষ। খেটে খাওয়া গ্রামীণ জনসাধারণের দু:খ দুর্দশার কথা চিন্তা করে প্রতিবাদী এসব মানুষ নেতাদের স্বার্থের কথা চিন্তা না করে জনগণের স্বার্থকে প্রধান্য দেওয়ার আহবান জানিয়েছেন। জানাগেছে, ইউনিয়ন বিভক্তিকরণের লক্ষ্যে হোয়াইক্যংসহ টেকনাফের বিভিন্ন ইউনিয়নে সীমানা নির্ধারণ কমিটির বৈঠক অনুষ্টিত হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কর্তৃক গঠিত সীমানা নির্ধারণ কমিটির বৈঠক গতকাল (২৩ জুলাই) সকালে হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তাদের নিয়ে গণশুনানি অনুষ্টিত হয়। হ্নীলায় অনুষ্টিত গণশুনানি নিয়ে লোকজন প্রশ্ন তুলছেন। কোন ধরণের প্রচার প্রচারণা ছাড়া উক্ত শুনানি অনুষ্টিত হয়েছে বলে লোকজনের দাবী। স্বয়ং জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক ও মেম্বার পদপ্রার্থী বিশিষ্ট বিএনপি রফিকুল ইসলাম অপি নিজেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, হ্নীলাতে একেবারে চুপিসারে গণশুনানি অনুষ্টিত হয়েছে। যা খুবই দু:খজনক। আমার মতো অনেক বিএনপি নেতাকেও গণশুনানিতে অংশ গ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি। তিনিসহ অনেকে হ্নীলায় অনুষ্টিত গণশুনানি নিয়ে চরম আপত্তি তুলছেন।
একই দিন বিকেল ৩টায় হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদে সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তা কর্তৃক পুর্ব নির্ধারিত গণশুনানি অনুষ্টিত হওয়ার আগেই ইউনিয়ন পৃথকীকরণে আপত্তি জানিয়ে অনেকক্ষণ পরিষদের প্রধান ফটকে সাধারণ জনগণ তালা ঝুলিয়ে দিয়ে প্লে কার্ড, ব্যানার ও পেষ্টুন নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের হস্তক্ষেপে তালা খুলে দিলেও গণশুনানি শুরু হওয়ার সাথে সাথেই ইউনিয়ন বিভক্তিতে আপত্তি জানিয়ে শত শত জনতা প্লে-কার্ড, পেষ্টুন ও ব্যানার নিয়ে ভুয়া ভুয়া শ্লোগান দিতে থাকে। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা পরিষদের বাইরে ব্যাপক ভাংচুর চালিয়েছেন। এতে স্থানীয় দফাদারসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তাসহ রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের পরিষদের হলরুমে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির উপ পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসাইন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। অবরুদ্ধ কর্তকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের উদ্ধার করেন। উপ পুলিশ পরিদর্শক আরো জানান, ঘটনায় হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের দফাদারসহ বেশ কয়েকজন ছোট-খাট আহত হয়েছেন। হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও গাজীপুর জেলা সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি সাংবাদিক মুহাম্মদ আবুল কাশেম জানান, জনগণের জন্য পরিষদ আর পরিষদই জনগণের। হোয়াইক্যংয়ে সাধারণ মানুষ ইউনিয়ন বিভক্তির বিপক্ষে। তারা অক্ষুন্ন ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষে। ইউনিয়ন বিভক্তি হলে জনগণের দু:খ দুর্দশা বাড়বে জানিয়ে তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ইউনিয়ন পৃথকীকরণ থেকে সরে আসার আহবান জানিয়েছেন। তবে হোয়াইক্যং মডেল ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ জালাল বিষয়টি নিয়ে কোন মন্তব্য করেননি। এদিকে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস.এম.অনীক চৌধুরী জানান, হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদ পৃথকীকরণে সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তা কর্তৃক স্থানীয়দের নিয়ে গণশুনানি শুরু হওয়ার আগেই ব্যাপক হট্টগোল হয়। এতে স্থানীয় লোকজন কর্তৃক ব্যাপক ভাংচুর চালান। পরে পুলিশ পাঠিয়ে ঘটনাস্থল থেকে সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তাসহ অন্যান্যদের উদ্ধার করা হয়। ইউনিয়ন বিভক্তি নিয়ে সাধারণ মানুষ টেকনাফজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। প্রতিবাদী জনতা ও সচেতন মহল, গুটিকয়েক নেতার লাভের কথা চিন্তা না করে; নিরীহ জনসাধরণের লাভের কথা ভেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ইউনিয়ন বিভক্তি থেকে সরে আসার আহবান জানিয়েছেন।