নিজস্ব প্রতিবেদক ::
উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবিরে কর্মরত দুই এনজিও কর্মকর্তাকে যৌন হয়রানির অভিযোগে আটক করে তাদেরকে জেল হাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
আটক সাহেল সানজিদ ও সেলিম উল্লাহ রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক) নামের একটি এনজিওথর কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে সাহেল সানজিদ রিকের প্রকল্প সমন্বয়কারী ও অন্যজন সেলিম উল্লাহ মনিটরিং কর্মকর্তা বলে জানা গেছে।
আটক এনজিওর দুই কর্মকর্তার ব্যাপারে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেছেন, দুই কর্মকর্তাকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদের পর মামলা রুজু করা হয়েছে। যার নং-৬৭ তাং-৩০/০৬/২০১৯। পরে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
জানা গেছে, রোহিঙ্গা শিবিরে ‘রিকথ নামের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা–এনজিওতে কর্মরত কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ভালুকিয়া পালং গ্রামের এক নারী কর্মীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ এই দুই কর্মকর্তাকে রবিবার সন্ধ্যায় আটক করেন।
আটক হওয়া কর্মকর্তা সাহেল সানজিদ নওগাঁ জেলার বাসিন্দা এবং সেলিম উল্লাহ কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বাসিন্দা। এনজিওটিতে কর্মরত নারী কর্মীর অভিযোগ হচ্ছে, সেলিম উল্লাহ নামের কর্মকর্তা তাকে নানা প্রলোভন দেখিয়ে বার বার কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল।
অপরদিকে ‘রিকথ এনজিওর নারী কর্মী একই এনজিওর কর্মকর্তা সেলিম উল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপনের পর সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
সেই তদন্ত কমিটির প্রধান হচ্ছেন, প্রকল্প সমন্বয়কারী সাহেল সানজিদ। বার বার যৌন হয়রানির শিকার হওয়া নারী কর্মী প্রকল্প সমন্বয়কারী সাহেল সানজিদের কাছে সেলিম উল্লাহর বিষয়ে তদন্তের ফলাফল জানতে গেলে উল্টো সাহেল সানজিদ নিজেও এক পর্যায়ে কুপ্রস্তাব দিয়ে বসেন বলে অভিযোগ উঠে।
এ বিষয়ে পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ আটকের পর থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। তবে এনজিও কর্মকর্তাদ্বয় তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
এ ব্যাপারে (রিক)র সহকারী পরিচালক দীপক রঞ্জন চক্রবর্তী জানান, প্রাথমিক একটি অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত সেলিম উল্লাহকে কারণ দর্শাও নোটিশ দেওয়া হয়েছে। অপর কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এখানো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
উখিয়া থানার ওসি (তদন্ত) নুরুল ইসলাম মজুমদার জানান, ঘটনার বিষয়ে মামলা রুজু করে ধৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও উক্ত এনজিও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ইতিপূর্বেও এনজিও কর্মকর্তা সেলিম উল্লাহর বিরুদ্ধে আরো অন্যান্য নারী এনজিও কর্মীদের পক্ষেও পুলিশের কাছে যৌন হয়রানির অভিযোগ রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
এছাড়াও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাজের সুবাদে বিভিন্ন এনজিওতে কর্মরত অংখ্য নারী কর্মীরা এভাবে যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার অহরহ অভিযোগ রয়েছে। কেউ অভিযোগ করলেও অনেকে অভিযোগ করার সাহস পাচ্ছেনা।