উখিয়া নিউজ ডেস্ক::
ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় গতকাল শনিবার সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন। এতে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ ১০ টি পদে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা।
জানা গেছে, শনিবার সকাল ১০ টা থেকে বেলা ২ টা পর্যন্ত আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের ভোট গ্রহণ চলে। এতে ৬৩২ ভোটের মধ্যে ভোটগ্রহণ হয়েছে ৫৮৪ টি। পরে গণনা শেষে নির্বাচন কমিশন রাত সাড়ে ১০ টায় নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন।
১৭ টি পদের মধ্যে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ ১০টি পদে জয় লাভ করেছেন বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদ ও সম্মিলিত আইনজীবী পরিষদের প্যানেল। বাকি সাতটি পদে জয় পেয়েছে জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী সমমনা বিজ্ঞ আইনজীবীদের প্যানেল।
নির্বাচনের ফলাফল সূত্রে জানা গেছে, সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদ ও সম্মিলিত আইনজীবী পরিষদের প্রার্থী মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম। তিনি পেয়েছেন ২৮৯ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী সমমনা বিজ্ঞ আইনজীবীদের প্যানেলের নুরুল মোর্শেদ আমিন পেয়েছেন ২৬৬ ভোট। এছাড়া সর্বদলীয় আইনজীবী পরিষদের ব্যানারে সভাপতি পদে প্রতিদ্বিন্দ্বতা করা মোহাম্মদ জাকারিয়া পেয়েছেন মাত্র ১৮ ভোট।
সহসভাপতি পদের দুটিতে জয় পেয়েছেন জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী সমমনা বিজ্ঞ আইনজীবীদের প্যানেলের প্রার্থী। ওই প্যানেলের ছাদেক উল্লাহ পেয়েছেন ৩১০ ভোট আর ফরিদ উদ্দিন ফারুকী পেয়েছেন ২৮৫ ভোট। সহসভাপতি পদ দুটিতে ভরাডুবি হয়েছে বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদ ও সম্মিলিত আইনজীবী পরিষদের প্রার্থীদের। তাঁদের মধ্যে পেয়েছেন সেলিম নেওয়াজ ২৭৯ ভোট ও জাহাঙ্গীর আলম ২৪৩ ভোট।
সাধারণ সম্পাদক পদে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদ ও সম্মিলিত আইনজীবী পরিষদ প্যানেলের প্রার্থী ইকবালুর রশিদ আমিন (সোহেল)। তিনি পেয়েছেন ৩৫১ ভোট। আর তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী সমমনা বিজ্ঞ আইনজীবীদের প্যানেলের আব্দুল মান্নান পেয়েছেন ২২৪ ভোট।
সহসাধারণ সম্পাদক (সাধারণ) পদে জয় পেয়েছেন জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী সমমনা বিজ্ঞ আইনজীবীদের প্যানেলের প্রার্থী মো. ইউনুছ। তিনি পেয়েছেন ৩০৪ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদ ও সম্মিলিত আইনজীবী পরিষদ প্যানেলের মোহাম্মদ নুরুল হক পেয়েছেন ২৬৭ ভোট।
সহসাধারণ সম্পাদক (হিসাব) পদে জয় পেয়েছেন বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদ ও সম্মিলিত আইনজীবী পরিষদ প্যানেলের প্রার্থী মো. ইসহাক শাহরিয়ার। তিনি পেয়েছেন ৩২৮ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী সমমনা বিজ্ঞ আইনজীবীদের প্যানেলের একে ফিরোজ আহমেদ পেয়েছেন ২৪৬ ভোট।
পাঠাগার সম্পাদক পদে বিপুল ভোটে জয় পেয়েছেন বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদ ও সম্মিলিত আইনজীবী পরিষদ প্যানেলের প্রার্থী আবুল হোছন। তিনি পেয়েছেন ৩২৯ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী সমমনা বিজ্ঞ আইনজীবীদের প্যানেলের সরওয়ার আলম পেয়েছেন ২৪৫ ভোট।
আপ্যায়ন ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে বিপুল ভোটে জয় পেয়েছেন বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদ ও সম্মিলিত আইনজীবী পরিষদ প্যানেলের প্রার্থী এবিএম মহিউদ্দিন। তিনি পেয়েছেন ৩৭৪ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী সমমনা বিজ্ঞ আইনজীবীদের প্যানেলের মনজুর আলম পেয়েছেন ২০৫ ভোট।
এছাড়া সদস্য পদে বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদ ও সম্মিলিত আইনজীবী পরিষদ প্যানেল থেকে ৫ জন নির্বাচিত হয়েছেন। তারা হলেন আমজাদ হোসেন (২৮৩), মোহাম্মদ ইসহাক(১) (৩০৬), রবিউল এহেছান (৩১৮), ইমরুল কায়েস (মানিক) (২৭০) ও লিপিকা পাল (২৯৫)।
আর জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী সমমনা বিজ্ঞ আইনজীবীদের প্যানেল থেকে সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন চারজন। তারা হলেন সদস্য পদে আবুল কালাম ছিদ্দিকী (৩০৬), সব্বির আহমদ (২৯৩), নাজিম উদ্দিন (২৭৫) ও তাওহীদুল আনোয়ার (৩৩৯)।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন এড. মো. শাহজাহান। নির্বাচন কমিশারের দায়িত্ব পালন করেন এড. সিরাজউদদোলা, এড.নুরুল আলম ও এড.মো. বাকের।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এড. মো. শাহজাহান বলেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে কারও কোন অভিযোগ নেই।