
পরিকল্পনা অনুযায়ী, এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের ফলে বন্দর শহর থেকে কক্সবাজারের দূরত্ব ৫৪ কিলোমিটার কমে যাবে
পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ব্যবস্থার আওতায় চট্টগ্রাম থেকে পটিয়া, বাঁশখালী ও ঈদমনি হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এক্সপ্রেসওয়েটি ১০৬ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে, যা বন্দর শহর থেকে কক্সবাজারের দূরত্ব ৫৪ কিলোমিটার কমিয়ে দেবে। অন্যদিকে, বিদ্যমান ১৬০ কিলোমিটার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার জাতীয় মহাসড়কটিকে চার লেনের সড়কে উন্নীত করা হবে।
গত ১০ নভেম্বর সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে উভয় প্রকল্পের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ২০৩০ সালের মধ্যে উভয় প্রকল্পই শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য জাপান সরকার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এছাড়া, চার লেনের আপগ্রেডেশন প্রকল্পের বিষয়ে, সহজ শর্তে ঋণের জন্য জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) সঙ্গে যোগাযোগ করবে সরকার। এক্সপ্রেসওয়েটি পটিয়া-আনোয়ারা-বাঁশখালী-ঈদমনি-চৌফলদন্ডী-খুরুশকুল-কক্সবাজার থেকে, শুধু ভ্রমণের দূরত্ব ও সময়ই কমিয়ে দেবে না বরং নির্মাণ খরচ ও টোল পেমেন্ট কমিয়ে দেবে। ফলে ভ্রমণ খরচও কমে যাবে।
কম দূরত্বের কারণে এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে চাপ কমার কারণে এক্সপ্রেসওয়েটি জনপ্রিয়তা পাবে বলে কর্মকর্তাদের আশা।
এর আগে এক্সপ্রেসওয়ের রুট নির্ধারণে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মো. আব্দুল মালেককে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। পরিদর্শন শেষে কমিটি বাঁশখালী হয়ে পথের প্রস্তাব করেছিল।
সংবাদমাধ্যম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মো. আব্দুল মালেক জানান, চট্টগ্রামের পটিয়া-আনোয়ারা-বাঁশখালী-টয়টং থেকে চকরিয়ার ঈদমনি পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার আঞ্চলিক সড়ক রয়েছে কিন্তু ঈদমনি-চৌফলদন্ডী-খুরুশকুল থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ৩৬ কিলোমিটার রাস্তা নেই। তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ ঈদমনি থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত একটি আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণের জন্য জরিপ কাজ শেষ করেছে।
তিনি জানান, সড়ক নির্মাণের জন্য ২ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরি করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।
2021/11/send-money-news-portel-770-x-90-1-1635916484363.gif
মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র, এলএনজি টার্মিনাল, প্রস্তাবিত মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর এবং মাতারবাড়ী কেন্দ্রিক জ্বালানি কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার এলাকাকে দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চল তাই বন্দর শহরের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ সহজতর করার জন্য এক্সপ্রেসওয়েটি অত্যন্ত দরকারি বলে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো মোহাম্মদ ইউনুস হলেন, এক্সপ্রেসওয়েটি বিদ্যমান চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে নির্মাণ করা যুক্তিসঙ্গত।
তিনি বলেন, “চট্টগ্রামের মিরসরাই থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত উপকূল বরাবর একটি মেরিন ড্রাইভ নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সরকার। এটি কক্সবাজার-টেনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের সঙ্গে যুক্ত হবে। কিন্তু, বাঁশখালীর মধ্য দিয়ে বাণিজ্যিক এক্সপ্রেসওয়ে নির্মিত হলে প্রস্তাবিত মিরসরাই-কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ নির্মাণ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে এবং পর্যটন শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
এদিকে, জাপানের ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় (এমএলআইটি) গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্ট (জিটুজি) পিপিপি পদ্ধতির অধীনে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক প্রকল্পে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে পিপিপি কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা জানান।
ফলে, এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের বিস্তারিত বিষয়ে এমএলআইটির সঙ্গে শিগগিরই আলোচনা করা হবে বলে তারা জানান।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) কর্মকর্তারা জানান, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) আর্থিক সহায়তায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-টেকনাফ চার লেন মহাসড়কের নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইআরডি কর্মকর্তারা বলেন চার লেনের আপগ্রেডেশন প্রস্তাব জাইকার কাছে উপস্থাপন করা হবে। তবে তারা যদি আগ্রহী না হয় তখন এডিবির সঙ্গে একটি ঋণ চুক্তি চূড়ান্ত করবে সরকার।