
শিশুদের সৃজনশীলতা ও মেধার বিকাশে খেলাধুলার মাধ্যমে শেখাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা। তাদের মতে, বাংলাদেশি শিশুদের পাশাপাশি কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শিশুদের বিকাশের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও সামাজিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
আজ ২২ এপ্রিল বুধবার কক্সবাজারের স্থানীয় একটি হোটেলে আয়োজিত ‘খেলার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ গঠন: শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশের জন্য স্টেকহোল্ডারদের সম্পৃক্ততা’ শীর্ষক কর্মশালা থেকে এই অভিমত উঠে আসে। ডেনমার্কভিত্তিক দাতা সংস্থা লেগো ফাউন্ডেশনের সহায়তায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের মানবিক সংকট ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি (এইচসিএমপি) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে অংশীদার হিসেবে ছিল ইউএসভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সিসিম ওয়ার্কশপ। শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব এবং করণীয় বিষয়ে সুপারিশ তুলে ধরা ও অংশীজনদের কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার উদ্দেশ্যে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, খেলাধূলার মাধ্যমে শিশুদের শিখন পদ্ধতি একটি অভিনব উদ্যোগ। এটা বাস্তবায়ন যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ এই পদ্ধতিতে শিক্ষাদানে আমরা কতটা সচেষ্ট আছি। তিনি এই কর্মশালা আয়োজনে ব্র্যাককে ধন্যবাদ জানান এবং আর্লি চাইল্ডহুড ডেভলপমেন্ট (ইসিডি) কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকারের সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহবান জানান।
কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ব্র্যাকের হেলথ প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক ডা. শায়লা ইসলাম। সঞ্চালনা করেন ব্র্যাকের এইচসিএমপি কর্মসূচির আওতাধীন ইসিডি সেক্টরের প্রোগ্রাম ম্যানেজার রোকসানা জাহান।
কর্মশালায় বিশিষ্টজনেরা যেসব সুপারিশ তুলে ধরেন সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: রোহিঙ্গা ক্যাম্পের লার্নিং সেন্টারগুলোতে শিশুদের উপস্থিতি বাড়ানো, স্থানীয় ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থানরত শিশুদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষায় আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া, বাংলা ভাষার পরিবর্তে মিয়ানমারের ভাষাকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠদান করা, শিশু নিরাপত্তায় স্থানীয় প্রশাসনকে সম্পৃক্ত করে অন্যান্য সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করা, স্থানীয়দের পাশাপাশি রোহিঙ্গা শিশুদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও সামাজিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষা প্রদান, শিশুদের ’প্লে টু লার্ন’ বা খেলাধুলার মাধ্যমে শিখন প্রক্রিয়ায় ‘কেয়ার গিভার’কে আরও সম্পৃক্ত করা এবং তাদের গুণগত শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া ইত্যাদি।
কর্মশালায় ‘শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশের জন্য স্টেকহোল্ডারদের সম্পৃক্ততা’ শীর্ষক উপস্থাপনা তুলে ধরেন ব্র্যাক এইচসিএমপি’র আওতাধীন হেলথ নিউট্রিশন ও ইসিডি’র প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর ডা. এস এম হাসানুজ্জামান। কর্মশালায় প্লে টু লার্ন এর ফেইজ ১ এর শিক্ষণীয় বিষয়গুলো তুলে ধরেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব এডুকেশনাল ডেভেলপমেন্ট (আইইডি) এর পার্টনারশিপ অ্যান্ড কমিউনিকেশনস বিভাগের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক সাঈদ মাহমুদ সানি।
কর্মশালায় আরও বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত শরনার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) আবু সালেহ মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ, ক্যাম্প-ইন-চার্জ (৭ নম্বর ক্যাম্প) সুরাইয়া আক্তার সুইটি, ক্যাম্প-ইন-চার্জ (১০ নম্বর ক্যাম্প) মুহাম্মদ আরাফাতুল আলাম, ব্র্যাকের এইচসিএমপি’র সহযোগী পরিচালক ও অফিস ইন চার্জ রেজাউল করিম, জাগো নারী উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক শিউলী শর্মা প্রমুখ। এতে ক্যাম্প-ইন-চার্জ তাপ্তি চাক্মা (১৭ নম্বর ক্যাম্প), আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, উপজেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা পরিষদের সদস্যসহ ৯০ জনের অধিক অতিথি উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, খেলাধুলার মাধ্যমে শিশুদের শিখন পদ্ধতি বর্তমানে বাংলাদেশ, উগান্ডা ও তানজানিয়া এই তিনটি দেশে সফলভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এতে অ্যানুয়েল অ্যাসেসমেন্ট ২০২৪ এর এক গবেষণার তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, প্রচলিত শিক্ষার তুলনায় খেলাধুলার মাধ্যমে শিশুদের শিক্ষা প্রদান করলে ৩০ শতাংশ থেকে ৮৫ শতাংশ মেধার বিকাশ বেশি ঘটে।