কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ আঞ্চলিক সড়কে দিন দিন বাড়ছে অপ্রাপ্তবয়স্ক, অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালকের সংখ্যা। বিশেষ করে রোহিঙ্গা চালকদের বেপরোয়া গাড়ি চালানো নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
অভিযোগ উঠেছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কাঁটাতারের বেড়া পেরিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য রোহিঙ্গা সড়কে নেমে সিএনজি অটোরিকশা, ডাম্প ট্রাক ও টমটমসহ বিভিন্ন যানবাহন চালাচ্ছে। এতে এ সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে প্রতিদিন সকাল হলেই অনেক রোহিঙ্গা কাঁটাতারের বেড়া পেরিয়ে বাইরে চলে আসে এবং দিনভর বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চালায়। রাতে আবার তারা ক্যাম্পে ফিরে যায়। অথচ তাদের বেশির ভাগেরই নেই কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স কিংবা আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব অদক্ষ চালকরা প্রায়ই বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালায়। ফলে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে উখিয়া-টেকনাফ সড়কে। সম্প্রতি এ সড়কের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া একাধিক দুর্ঘটনার পেছনে অদক্ষ চালকদের বেপরোয়া গতিই বড় কারণ বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
আরও জানা গেছে, এসব গাড়ির মালিকানার একটি বড় অংশও রোহিঙ্গাদের হাতে রয়েছে। আবার স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী মহলের গাড়িও চালাচ্ছে রোহিঙ্গারা। ফলে একপ্রকার বিনা বাধায় তারা সড়কে যানবাহন চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়রা বলছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এপিবিএন পুলিশের চোখের সামনেই অনেক সময় এসব ঘটনা ঘটলেও অদৃশ্য কারণে তারা বিষয়টি এড়িয়ে যায়। এতে রোহিঙ্গা চালকদের মধ্যে এক ধরনের বেপরোয়া মনোভাব তৈরি হয়েছে।
এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, অনেক চালক রাত জেগে অনলাইনে জুয়ার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। রাতভর জেগে থাকার কারণে দিনের বেলায় চোখে ঘুম নিয়েই তারা গাড়ি চালায়। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
উখিয়া অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি রবিউল হুসাইন বলেন, রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পের ভেতরে থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে তারা ক্যাম্প থেকে বের হয়ে বিভিন্ন যানবাহন চালাচ্ছে। তাদের বেশির ভাগেরই কোনো প্রশিক্ষণ বা লাইসেন্স নেই। এতে সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। বিষয়টি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
এদিকে স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, এসব যানবাহনের একটি বড় অংশ নিয়মবহির্ভূতভাবে চলাচল করলেও একটি সংঘবদ্ধ চক্রকে নিয়মিত চাঁদা দেওয়ার কারণে তারা নির্বিঘ্নে সড়কে চলাচল করছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় একটি সংগঠনের নাম ব্যবহার করে গাড়ি থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হয়।
বিশেষ করে কুতুপালং পশ্চিম পাড়া সড়কে চলাচলকারী গাড়িগুলো থেকে প্রতি মাসে এক লাখ টাকারও বেশি চাঁদা তোলা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এ ধরনের চাঁদাবাজির কারণে অবৈধ ও অদক্ষ চালকদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, উখিয়া-টেকনাফ সড়কে লাইসেন্সবিহীন ও অদক্ষ চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান এবং রোহিঙ্গাদের অবৈধভাবে যানবাহন চালানো বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে দুর্ঘটনার সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।