হুমায়ুন কবির জুশান উখিয়া ::
ব্যবসার মৌসুমেও করোনার ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। এমনিতে কেনাবেচার মন্দা ভাব। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লকডাউনের কারণে জরিমানা। একদিকে প্রশাসনের কড়াকড়ি অন্যদিকে রমজানের কারণে মানুষ সকাল সকাল বের হচ্ছেন না। যখনই মানুষ কেনাকাটা করতে বের হন তখনই প্রশাসনের লোকজনের ভয়ে দোকান বন্ধ করে দিতে হয়। অন্যতাই মোটা অংকের জরিমানা গুনতে হয়। এ কারণে বেচাকেনায় খরা চলছে। উখিয়া সদর দারোগা বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, যেকোনো বছর রমজানে বেচাকেনা বেশ জমজমাট থাকত। গেল বছর এবং চলতি বছর করোনায় ব্যবসা মন্দা চলছে। ব্যবসায়ী আব্দুল করিম বলেন, করোনার প্রভাবে বেচাকেনা কমে গেছে অর্ধেকের বেশি। পরিবার পরিজন নিয়ে চলতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধ করতে আবারও এক সপ্তাহের জন্যে কঠোর কড়াকড়ি আরোপ করতে যাচ্ছে সরকার। গত ১৪ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে ২১ এপ্রিল মধ্যরাত পযর্ন্ত কঠোর বিধিনিষেধ ছিল। করোনাভাইরাস ( কোভিড-১৯ ) পরিস্থিতি বেশ অবনতির কারণে আগের নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় আবারো এক সপ্তাহের বিধিনিষেধ আরোপ করার কথা বলা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। সরকারের এমন বিধিনিষেধ আরোপ জনগণ কিভাবে নিচ্ছেন? এমন প্রশ্নে মোহাম্মদ ইউনুছ বলেন, গাড়ির পেছনে লেখা থাকতো সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। এখন বলা হচ্ছে জীবিকার চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। তিনি উল্টো প্রশ্ন করে বলেন, কোনটি বড় জীবন না জীবিকা। জীবিকা সন্ধানের সুযোগ না থাকলে জীবন চলবে কী করে? পেটে ভাত নেই। রাষ্ট্র যদি জনগণের জীবনের কথা বিবেচনা করে তাহলে যারা সরকারি বেতন পান না সাধারণ খেটে-খাওয়া মানুষ তাদের ঘরে খাবারের ব্যবস্থা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। রাষ্ট্র খাবার দিবে না আমাদের প্রতিও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করবে তা হয় না। পঞ্চাশ বছরের এক মহিলা খাবারের জন্যে বাড়ি বাড়ি ঘুরছেন। কথা হয় এ প্রতিবেদকের সাথে। স্বামী কি করেন, ছেলে-মেয়ে কয়জন? জানতে চাইলে তিনি দুঃখ করে বললেন, জীবনে কোনদিন খাবারের খুঁজে ঘর থেকে বের হয়নি। স্বামী মারা যাওয়ার এক বছর পর আমার বড় ছেলেটিও মারা যায়। ৫ মেয়ের মধ্যে ৪ মেয়ে বিয়ে দিয়েছি। এক মেয়ে নিয়ে আমি বাড়িতে বড়ই একা। আয়-রোজগারের কেউ নেই। মেয়ের চেহারার দিকে থাকাতে পারি না। ঘরে খাবার নেই। কেউ আমাদের খোঁজ রাখে না। তাই বাধ্য হয়ে জীবিকার সন্ধানে মানুষের বাড়ি বাড়ি ঘুরছি। সাহরী কি দিয়ে খেয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আম কাজি আর মরিচ ভর্তা দিয়ে খেয়েছি। মাছ মাংস খেতে পারিনি অনেক দিন। অসহায় গরিবের সংসার। তিনি বিধবা ভাতাও পান না। উখিয়া সদর রাজাপালং ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড শিলের ছড়া গ্রামের হুসনে আরা বেগম বলেন, ৩ বছর আগে আমার স্বামী পানি পথে মালেশিয়ায় যাওয়ার পর থেকে আর খবর পাওয়া যায়নি। মরে গেছে নাকি বেঁচে আছে জানিনা। তবে অনেকেই বলছেন তিনি মারা গেছেন। আমার ৫ বছরের একটি মেয়ে আছে। কোথাও কাজ করার মতো সুযোগ নেই। এই করোনাকালিন সময়ে মানুষের বাড়িতে গিয়েও কাজ পাচ্ছি না। অভাব অনটনের সংসার। আমাদের মতো গরিবের কেউ খবর রাখে না। এদিকে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুর উর্ধগতি অব্যাহত আছে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে উখিয়ায় স্থানীয় মারা গেছেন ৩ জন আর রোহিঙ্গা মারা গেছেন ১০ জন। এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন স্থানীয় ৭৭৬ এবং রোহিঙ্গা ৩৯৪ জন। গতকাল সোমবার উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৬ জন রোগীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।