
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং বাজারে উচ্ছেদ অভিযানের পর কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি বলে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগে নতুন করে আলোচনায় এসেছে পুরো বাজার পরিস্থিতি।
স্থানীয় সূত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, খালি হওয়া জায়গাগুলোতে আবারও সিএনজি, টমটম ও মোটরসাইকেলের অনিয়ন্ত্রিত পার্কিং শুরু হয়েছে। এতে বাজার এলাকায় যানজট ও জনদুর্ভোগ বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি খাসজমি দখল হয়ে থাকায় ক্ষুদ্র কাঁচামাল ও সবজি বিক্রেতারা নির্দিষ্ট জায়গা না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন বলেও জানা গেছে।
এদিকে বাজার ঘিরে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, টাকা আত্মসাৎ, হুমকি-ধামকি ও প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। কুতুপালং বাজার ব্যবসায়ী সমিতির বর্তমান ও সাবেক নেতাদের মধ্যে ফেসবুকে প্রকাশিত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
একটি পক্ষের ফেসবুক পোস্টে দাবি করা হয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজে অর্থ লেনদেনের ঘটনা ধরা পড়ার পর টাকা ফেরত দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। একইসঙ্গে ফুটপাতে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে, যা নিয়ে বাজারজুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অন্যদিকে বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের ফেইসবুক পোস্টে পাল্টা বক্তব্যে দাবি করা হয়েছে, তাকে সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য পরিকল্পিতভাবে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
স্থানীয়দের অনেকের অভিযোগ, উচ্ছেদের পর বাজারে স্থায়ী পার্কিং ব্যবস্থা ও খাসজমি ব্যবস্থাপনা না থাকায় আবারও আগের মতো বিশৃঙ্খলা ফিরে আসছে। এতে সাধারণ ব্যবসায়ী, ক্রেতা ও পথচারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কুতুপালং বাজারে স্থায়ী শৃঙ্খলা ফেরাতে হলে অবিলম্বে অবৈধ পার্কিং নিয়ন্ত্রণ, খাসজমি পুনরুদ্ধার এবং স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি। তা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
এ বিষয়ে বাজার কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।