
কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে আশ্রিত রোহিঙ্গা নাগরিকদের চলাচল নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ছে তারা। এছাড়া কতিপয় দালালদের সহায়তায় এসব রোহিঙ্গারা বিদেশ পর্যন্ত গমন করছে। এই ব্যাপারে সচেতনমহলে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবী উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পুরাতন রোহিঙ্গা এবং ২০১৭ সালে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা উখিয়ার ২৪টি এবং টেকনাফের আটটি শরণার্থী ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়। সরকারী ও বেসরকারী সংস্থাসমুহ তাদের খাদ্য, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসহ যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করে আসছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অক্লান্ত পরিশ্রম করে সার্বিক নিরাপত্তা দিয়ে আসছে। রোহিঙ্গাদের বেপরোয়া চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনের জন্য কয়েকটি ক্যাম্পে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তবে রোহিঙ্গারা এসব আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করেই যত্রতত্র গমন করে দেশের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে বসতি গড়ছে। যা আগামীতে দেশের জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতি ধারণ করবে বলে আশঙ্কা অনেকের।
এছাড়া এসব রোহিঙ্গাদের একাংশ চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক কারবার, অপহরণ ও মুক্তিপণসহ নানা অপকর্মে লিপ্ত থেকে ক্যাম্প সমুহকে অস্থির করে তুলছে। অবশিষ্ট রোহিঙ্গাদের কিছু অংশ দুর সম্পর্কের আত্মীয়, ধর্মীয় জ্ঞাতি ভাইয়ের দোহাই দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ছে।
অন্য একটি অংশ স্থানীয় দালাল প্রকৃতির লোকজনের সহায়তায় জন্ম নিবন্ধন এবং জাতীয়তার সনদ নকল করে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে গমন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তারাই বিদেশে বসে বিভিন্ন সংস্থার নিকট থেকে চাঁদা সংগ্রহ করে উগ্রপন্থী সংগঠনের তহবিল যোগান দিচ্ছে বলেও জনশ্রুতি রয়েছে। তাই এসব রোহিঙ্গা নাগরিকদের কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের দাবী উঠেছে স্থানীয়ভাবে।