মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) গভীর রাতে ওই হোটেলের তৃতীয় তলায় আগুন লাগার পর তা পাশের কয়েকটি হোটেলেও ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, দু’জন মহিলা এবং এক জন শিশু রয়েছেন। তবে তাদের নাম-পরিচয় এখনো জানা সম্ভব হয়নি।
এদিকে দূতাবাস ৮ জন বাংলাদেশীর মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টায় ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের একটি হোটেলের তৃতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে হোটেলের বিভিন্ন কক্ষ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের হোটেলেও। এ সময় আতঙ্কিত হয়ে হোটেলের ভেতর থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে সেখানে হুড়োহুড়ি শুরু হয়।
আগুন লাগার খবর পেয়ে দমকল বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে ঘটনাস্থলটি সরু গলির মধ্যে হওয়ায় দমকলের গাড়ি ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি। ফলে বাইরে থেকে আগুন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পরে হোটেলের ভেতরে ঢুকে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন দমকলকর্মীরা।
দমকল ও উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা হোটেল থেকে প্রায় ৬০ জনকে উদ্ধার করেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের শরীরে বড় ধরনের পোড়া বা ঝলসে যাওয়ার চিহ্ন তেমন পাওয়া যায়নি। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। কয়েকজনের অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।
প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে দমকল বাহিনী। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থলে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের যাওয়ার কথা রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, আগুন লাগার সময় হোটেলের অধিকাংশ মানুষ ঘুমিয়ে ছিলেন। বাইরে থেকে আগুনের শিখা দেখা না গেলেও হোটেল থেকে প্রচুর কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। হোটেলের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ সরু হওয়ায় আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সেখানে অবস্থান করা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও হুড়োহুড়ি শুরু হয়।
কলকাতার এই অগ্নিকাণ্ডের মাত্র দুই দিন আগে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার তারাপীঠে আরেকটি হোটেলে ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটে।
১৭ আগস্ট ভোরে তারাপীঠের হোটেল বিদেষিণীতে আগুনে অন্তত ৮ জন নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হন।
পাঁচতলা ওই হোটেলের নিচতলায় ভোর সাড়ে ৪টার দিকে আগুন লাগে। তখন অধিকাংশ অতিথি ঘুমিয়ে ছিলেন। হোটেলটি তারাপীঠ মন্দিরের কাছে একটি পবিত্র পুকুরের পাশে অবস্থিত।
