
দেশের সবচেয়ে বেশি করোনা সংক্রমণে এবার রাজধানী ঢাকাকে ছাপিয়ে গেলো মৌলভীবাজার জেলা। এখানে শনাক্তের হার প্রায় ৪৯ ভাগ। এছাড়া, দেশে এখন করোনার উচ্চ সংক্রমণ ছড়িয়েছে আরও ৪৫ জেলায়।
মুন্সিগঞ্জ ও ফেনীতে শনাক্ত চল্লিশ ভাগের বেশি। আর ঢাকায় সবচেয়ে বেশি রোগী আদাবর, দারুস সালাম ও চকবাজার এলাকায়। আইইডিসিআর বলছে, ক্লাস্টার বা গুচ্ছ আকারে বিস্তার হওয়ায় দ্রুত ছড়াচ্ছে করোনাভাইরাস।
২৩ লাখ মানুষের জেলা মৌলভীবাজারে প্রবাসী চার থেকে পাঁচ লাখ। যুক্তরাজ্যে করোনার নতুন ধরণ শনাক্ত হওয়ার পর অনেকেই দেশে ফিরেছেন।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. চৌধুরী জালাল উদ্দিন মোর্শেদ বলছেন, সারা দেশের মধ্যে করোনা শনাক্তের হার সবচে বেশি মৌলভীবাজারে। প্রতি ১০০ নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হচ্ছে প্রায় অর্ধেকের।
এরপর সর্বোচ্চ সংক্রমণ মুন্সিগঞ্জে ৪৪ দশমিক ৩৮ ভাগ, ফেনীতে ৪২ দশমিক ৭৯ ভাগ। ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট, হবিগঞ্জ, রাজবাড়ি ও নওগাঁয় শনাক্তের হার ৩৩ থেকে ৪০ এর মধ্যে। ভোলা, দিনাজপুর, ফরিদপুর, কুমিল্লা, মাদারীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ ২০টি জেলায় শনাক্তের হার ২১ থেকে ৩০। আর নরসিংদী, কক্সবাজার, বরগুনা, পটুয়াখালীসহ ১৫ জেলায় শনাক্ত ১১ থেকে ২০ ভাগ।
রাজধানীতে ২২ মার্চের পর ৮৪ হাজার নমুনা পরীক্ষায় দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি রোগী আদাবরে। এরপরেই বেশি শনাক্ত হচ্ছে চকবাজার, দারুস সালাম, হাজারীবাগ, যাত্রাবাড়ী ও ভাটারায়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলছেন, টিকা আসায় এবং টিকা গ্রহণের পর সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেকটা গাছাড়া ভাব এসেছে। এতে স্বাস্থ্য বিষয়টি উপেক্ষিত হয়েছে।
পরীক্ষা বিবেচনায় করোনা শনাক্তের হার দশের বেশি হলে তাকে উচ্চ সংক্রমিত এলাকা ধরা হয়। আর পাঁচের কম হলে তাকে নিম্ন সংক্রমণ ধরা হয়। একমাত্র জেলা পাবনাতেই শনাক্তের হার পাঁচের কম।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়ে। গত ৩০ নভেম্বরের পর ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত সংক্রমণ ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে। কিন্তু চলতি বছরের মার্চের শুরু থেকে দৈনিক শনাক্ত রোগী, মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। গতকাল বুধবারও দেশে এযাবতকালের সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড সংখ্যক ৭ হাজার ৬২৬ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে।