‘লক্ষ্মী আসন’—দীর্ঘদিনের এই রাজনৈতিক তকমা এবারও অটুট থাকল কক্সবাজার–৪ (উখিয়া-টেকনাফ) সংসদীয় আসনে। স্বাধীনতার পর থেকে যে আসনে বিজয়ী দলের প্রার্থীই শেষ পর্যন্ত সরকার গঠন করেছে, সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবারের নির্বাচনেও জয় পেয়েছেন ক্ষমতায় যেতে যাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী।
টানটান উত্তেজনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে শাহজাহান চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৮২ ভোট। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও কক্সবাজার জেলা আমির নূর আহমদ আনোয়ারী পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৩৩ ভোট।
মাত্র ১ হাজার ৫৪৯ ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয়। ভোট গণনার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলে, যা আসনটির তীব্র রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতারই প্রমাণ।
উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৬৮৮ জন। পোস্টাল ব্যালটসহ ১১৬টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
ভোটের হার ছিল ৬৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ।
স্বাধীনতার পর অনুষ্ঠিত ১২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত কক্সবাজার-৪ আসনে যে দলের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন, সেই দলই সরকার গঠন করেছে। এ কারণেই স্থানীয়ভাবে আসনটি ‘লক্ষ্মী আসন’ নামে পরিচিত। জাতীয় রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণে এ আসনের ফলাফলকে অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখেন।
উখিয়া ও টেকনাফের ভৌগোলিক ও ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব, সীমান্তবর্তী অবস্থান, রোহিঙ্গা ইস্যু, উন্নয়ন ও নিরাপত্তা প্রশ্ন—সব মিলিয়ে আসনটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এখানে নির্বাচন মানেই বাড়তি উত্তেজনা ও নজর।
নির্বাচনের দিন সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। নারী ভোটারদের অংশগ্রহণও ছিল উল্লেখযোগ্য। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল নিয়ন্ত্রণে।
ফলাফল ঘোষণার পর উখিয়া ও টেকনাফে বিজয়ী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়। অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরেও স্বল্প ব্যবধানের ফলাফল নিয়ে চলছে বিশ্লেষণ।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ‘লক্ষ্মী আসন’ হিসেবে পরিচিত কক্সবাজার–৪ আবারও তার ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে। স্বল্প ব্যবধানের এই জয় যেমন রাজনৈতিক উত্তেজনার বার্তা দিচ্ছে, তেমনি জাতীয় রাজনীতির বৃহত্তর সমীকরণেও এ আসনের গুরুত্ব যে অটুট—তা আরেকবার প্রমাণিত হলো। সুত্র,কালের কন্ঠ