পর্যটনের শহর কক্সবাজার, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে বিশ্বজোড়া খ্যাতি থাকলেও ক্রীড়া সুবিধায় পিছিয়ে। এই বাস্তবতা সামনে এনে নতুন পরিকল্পনার কথা জানালেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী, যিনি চান এখানেই গড়ে উঠুক আন্তর্জাতিক মানের স্পোর্টস ভিলেজ।
আজ শুক্রবার কক্সবাজার ক্রিকেট স্টেডিয়ামের বর্তমান অবস্থা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। স্টেডিয়াম পরিদর্শন শেষে তিনি জানান, পর্যটননির্ভর এই অঞ্চলে আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে তুলতে সরকার একটি বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, যার অংশ হিসেবে নির্মাণ করা হতে পারে একটি আধুনিক স্পোর্টস ভিলেজ।
স্টেডিয়ামের সার্বিক পরিস্থিতি ঘুরে দেখে প্রতিমন্ত্রী সরাসরি বলেন, ‘কক্সবাজারের মতো মনোরম একটি জায়গায় বর্তমান অবকাঠামোগত ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত নাজুক এবং জরাজীর্ণ। মাঠের অবস্থা কিছুটা গ্রহণযোগ্য হলেও খেলোয়াড় ও পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা এখানে নেই বললেই চলে। বিগত সময়ে এই প্রকল্পের আশানুরূপ অগ্রগতি না হলেও বর্তমান সরকার নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করতে চায়।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘পর্যটন নগরী কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে এখানে আন্তর্জাতিক মানের স্পোর্টস ট্যুরিজম প্রসারে মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার।’
সরকারের পরিকল্পনায় শুধু ক্রিকেট নয়, বরং ফুটবল, ইনডোর গেমসহ বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার সুবিধা রেখে একটি পূর্ণাঙ্গ স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের কথা ভাবা হচ্ছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে কারিগরি ও প্রশাসনিক জটিলতা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, ঢাকায় ফিরে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, ক্রিকেট ও ফুটবল বোর্ডের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসবেন তিনি।
বিশেষ করে কক্সবাজার বিমানবন্দরের নিকটবর্তী হওয়ায় স্টেডিয়ামে ফ্লাডলাইট স্থাপনে যে সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে সিভিল এভিয়েশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে আলোকসজ্জা নিশ্চিত করা সম্ভব বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশের স্টেডিয়ামের উদাহরণ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গ্যালারির প্রথাগত কাঠামোর বাইরে ঘাসের ওপর বসে বা শুয়ে খেলা দেখার যে সংস্কৃতি বিদেশে রয়েছে, কক্সবাজারের প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্য রেখে তেমন কিছু করার পরিকল্পনা তাদের রয়েছে।’
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে কক্সবাজারকে বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় স্পোর্টস ট্যুরিজম স্পট হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি দেশের ক্রীড়াঙ্গনের সার্বিক উন্নয়নে সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তার ভাষায়, ক্রিকেট বা ফুটবলের গণ্ডি ছাড়িয়ে সার্ফিংসহ অন্যান্য খেলাধুলাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নিয়মিত টুর্নামেন্ট আয়োজনের মাধ্যমে এই খেলাগুলোর বিকাশ ঘটানোর আহ্বানও জানান তিনি।
একই সঙ্গে তিনি জানান, বিভিন্ন ইভেন্টের খেলোয়াড়দের ইতোমধ্যে বেতন কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে এবং আর্থিকভাবে দুর্বল ফেডারেশনগুলোকেও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভালো পারফরম্যান্স করতে পারলে সার্ফারদেরও এই কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে আশ্বাস দেন প্রতিমন্ত্রী। এবারের সার্ফিং প্রতিযোগিতায় তিনটি ক্যাটাগরিতে অংশ নিচ্ছেন শতাধিক প্রতিযোগী