
বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ আকাশসীমায় নোটিশ টু এয়ারম্যান (নোটাম) জারি করে বিধিনিষেধ দেয়ার পর ভারত আন্তঃমহাদেশীয় মিসাইল পরীক্ষা চালিয়েছে কি না— এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলেও বিভিন্ন আলামত থেকে এমন ধারণা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের কক্সবাজারসহ বেশি কয়েকটি এলাকা থেকে ভারতের আকাশে রহস্যময় আলোক রেখা দেখা গেছে। সাধারণত মিসাইল ছোড়ার পর এর যাত্রাপথে এই ধরণের আলোক রশ্মি দেখা যায়।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) এক প্রতিবেদনে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনোমিক টাইমস জানায়, বঙ্গোপসাগরে নিজেদের আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল অগ্নি-৬ এর পরীক্ষা চালাতে পারে ভারত। এর অংশ হিসেবে ৬ থেকে ৯ মে বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ আকাশসীমায় বিধিনিষেধ জারি করেছে দেশটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যালিস্টিক মিসাইলের পরীক্ষা চালাতে নোটাম জারি করা হয়েছে।
ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বিধিনিষেধটি ওড়িশার আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে ৩ হাজার ৫০০ কিলোমিটার অঞ্চলজুড়ে প্রযোজ্য। এই দ্বীপ থেকে গুরুত্বপূর্ণ মিসাইলের পরীক্ষা চালায় নয়াদিল্লি।
এই নোটিশ জারির পর আকাশে আলোক রেখা দেখে ধারণা করা হচ্ছে, ভারত তাদের ১০ হাজার কিলোমিটার পাল্লার অগ্নি-৬ আন্তঃদেশীয় মিসাইল পরীক্ষা চালিয়ে থাকতে পারে।
ইকোনোমিক টাইমস জানিয়েছে, মিসাইল পরীক্ষার ব্যাপারে ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে বঙ্গোপসাগরের আকাশসীমায় বিধিনিষেধ আরোপ থেকে একটি সম্ভাব্য পরীক্ষার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল পরীক্ষার জন্য সময়টি তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এটি ২০২৫ সালের মে মাসে পরিচালিত ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর প্রথম বার্ষিকীর সময়ের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। যদিও ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে এ দুই ঘটনার মধ্যে কোনো সম্পর্কের কথা বলেনি।
এদিকে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় শুক্রবার বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতেই আকাশে দেখা মিলেছে রহস্যময় আলোর এক দীর্ঘ রেখা, যা দেখতে অনেকটা ক্ষেপণাস্ত্রের মতো। কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, পিরোজপুর, মাদারীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় মিসাইল উৎক্ষেপণের মতো এ দৃশ্য দেখা গেছে।
কক্সবাজার থেকে ভারতের আকাশে দেখা গেল ‘রহস্যময়’ আলো
শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে হঠাৎ করে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের আকাশে দেখা মেলে রহস্যময় আলো। যার স্থায়িত্ব ছিল মাত্র ১ মিনিটের মতো। সৈকতের লাবনী পয়েন্টের বালিয়াড়ি থেকে ওই আলো দেখতে পান পর্যটকসহ স্থানীয় দর্শনার্থীরা। বিষয়টি ব্যাপক কৌতূহলের জন্ম দেয়।
লাবণী পয়েন্টের বালিয়াড়ি থেকে সৈকতের আকাশের আলোটি ক্যামেরাবন্দী করেন স্থানীয় যুবক হোছাইন মোহাম্মদ মিশুক। তিনি বলেন, সৈকতে বসে ছিলাম আমরা ৬ জন বন্ধু। হঠাৎ সন্ধ্যা ৭টায় আকাশে দেখি ভিন্ন রকমের আলো। যা দ্রুত মোবাইলের ক্যামেরায় ধারণ করি। এই আলোর স্থায়িত্ব ছিল ১ মিনিট। তবে, এটা কী ছিল তা বুঝতে পারছি না।
অ্যাডভোকেট কেফায়েত উল্লাহ নামে স্থানীয় একজন ফেসবুকে ভিডিও পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘ঠিক ইরানি মিসাইলের মতো....কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত থেকে আমিও দেখলাম। আপনাদেরকেও দেখার সুযোগ করে দিলাম।’
এ ব্যাপারে কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এটা আবহাওয়া গত বিষয় নয়। আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান বলেন, ‘এটা ভারতের জলসীমায় ঘটেছে। অনেকে বলছেন, এটা দূরপাল্লার মিসাইল পরীক্ষা হতে পারে।