উখিয়া নিউজ ডেস্ক::
কক্সবাজার সদর হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে রোগীদের নি¤œমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। এবার খোদ মেয়র নিজে হাসপাতালে গিয়ে প্রমাণ এই অভিযোগের প্রমাণ নিলেন। নি¤œমানের খাবার দেখে চরম ক্ষেপে যান তিনি।
শনিবার সন্ধ্যায় ঝটিকা সদর হাসপাতাল পরিদর্শনে যান কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান। এসময় তিনি বেশকিছু অব্যবস্থাপনার চিত্র দেখতে পান। পরিদর্শনের এক পর্যায়ে ওয়ার্ডে খাবার নিয়ে যাওয়ার সময় খাবারগুলো যাচাই করে দেখেন মেয়র। এসময় অত্যন্ত নি¤œমানের খাবার সরবরাহের প্রমাণ পান তিনি।
পরিদর্শনের সময় মেয়রের সাথে থাকা একজন ব্যক্তি দৈনিক কক্সবাজারকে বলেন, খাবারের তরকারি গুলো ছিল খুব নি¤œমানের। মেয়র নিজে জিহ্বায় লাগিয়ে টেস্ট করে দেখে তার প্রমাণ পান। এসব দেখে তিনি চরম ক্ষেপে যান। এসময় মেয়র সেখানে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘অসহায় দরিদ্র রোগীদের নি¤œমানের খাবার সরবরাহ করে ধোঁকা দেওয়া প্রতারণার সামিল। অব্যবস্থাপনার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দায়ী করে খাবার মান যাচাই করে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে বলে জানান তিনি।’
চলতি মাসের মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সদস্যরা কক্সবাজার হাসপাতালের নানা অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে হাসপাতালের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনার খোঁজ নেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য ও পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমানকে প্রধান করে কমিটি গঠন করেন জেলা প্রশাসক।
কমিটি গঠনের কয়েকদিনের মাথায় কাউকে না জানিয়ে আচমকা হাসপাতালে যান কমিটির প্রধান মেয়র মুজিবুর রহমান। পরিদর্শনে গিয়ে পাওয়া সব অনিয়ম যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে সুপারিশ করা হবে বলে জানান তিনি।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালে খাবার সরবরাহের দায়িত্বে আছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আসাদ এন্টারপ্রাইজ। এই প্রতিষ্ঠানটির মালিক যুবলীগ নেতা আসাদ উল্লাহ। বেশ কয়েক বছর ধরে খাবার সরবরাহের দায়িত্ব জিম্মি হয়ে আছে যুবলীগ নেতা আসাদ উল্লাহ ও তার ভাই শহিদুল্লাহ’র হাতে। ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার করে নামমাত্র খাবার সরবরাহ করে রোগীদের সাথে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এই ভাই সিন্ডিকেট। তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস নেই হাসপাতালের কোন কর্মকর্তার। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে নানা সমস্যার সম্মুখিন হতে হয়।