কক্সবাজার-টেকনাফ আঞ্চলিক সড়ক ও মেরিন ড্রাইভ সড়কে দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে। গত দুই দিনে রামু ও খুনিয়াপালং এলাকায় পৃথক তিনটি সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৪ জন নিহত এবং প্রায় ১০ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই শিশু, এক সিএনজি চালক ও এক পথচারী রয়েছেন।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) দুপুরে রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ধোয়াপালং এলাকায় দুইটি সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে সিএনজি চালক জামাল নিহত হন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। নিহত জামাল হলদিয়া পালংয়ের পশ্চিম হলদিয়া এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় সিএনজি চালক ছিলেন। এ ঘটনায় আরও ৮ থেকে ৯ জন যাত্রী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে একই দিন দুপুর প্রায় ১২টার দিকে রামু উপজেলার হিমছড়ি মেরিন ড্রাইভ সড়কের পেঁচার দ্বীপ এলাকায় একটি দ্রুতগতির কারের ধাক্কায় নজির আহমদ নামে এক পথচারীর মৃত্যু হয়। তিনি খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। নিহতের ছেলে মোহাম্মদ ইউনুস জানান, জুমার নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদে যাওয়ার পথে টেকনাফ থেকে কক্সবাজারগামী একটি ভাড়া চালিত ‘দুয়েল’ কার তাকে ধাক্কা দিলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সৌম নাথ জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত গাড়ি ও চালককে জব্দ করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের মির্জা আলীর দোকান এলাকায় মিনিট্রাক ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই শিশু নিহত এবং চালকসহ তিনজন আহত হন। নিহতরা হলেন উখিয়া উপজেলার পালংখালী এলাকার ফরিদুল ইসলামের মেয়ে বুসরা (৭) এবং একই এলাকার নুরুল আলমের মেয়ে জান্নাতুল মাওয়া মনি (১৪)।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন সরওয়ার আলম ফয়সালের স্ত্রী উম্মে হাবিবা বিউটি (২৬), তার মেয়ে ফায়জা বিনতে ফয়সাল (৬) এবং অটোরিকশা চালক মোহাম্মদ সাঈদী (২৭)। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে জান্নাতুল মাওয়া মনি ও উম্মে হাবিবা বিউটিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে চট্টগ্রামে নেওয়ার পথে ঈদগাঁও এলাকায় পৌঁছালে জান্নাতুল মাওয়া মনির মৃত্যু হয়।
রামু হাইওয়ে ক্রসিং থানা পুলিশের পরিদর্শক নাছির উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, কক্সবাজার-টেকনাফ আঞ্চলিক সড়ক ও মেরিন ড্রাইভে দ্রুতগতির যানবাহন ও বেপরোয়া ড্রাইভিংয়ের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। ঈদকে সামনে রেখে সড়কে যানবাহনের চাপ বাড়ায় ঝুঁকিও বাড়ছে। তাই দুর্ঘটনা রোধে সড়কে কঠোর নজরদারি ও গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।