কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আর-ও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত চব্বিশ ঘন্টায় দুই জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার ০১ এপ্রিল) সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের ডেডিকেটেড হাম ওয়ার্ডে ওই শিশুর মৃত্যু হয়।
৭ মাস বয়সী শিশুটি মহেশখালীর বাসিন্দা সরওয়ার আলমের কন্যাশিশু হিরা মনি। হিরা মনিকে ৩০ মার্চ সদর হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসকরা বলছেন, শিশুদের ৯ থেকে ১৫ মাসের মধ্যে হামের টিকার নিয়মিত কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার কারণেই বেড়েছে প্রাদুর্ভাব।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শহিদুল আলম জানান, শিশুটির হামের পাশাপাশি নিউমোনিয়া ও মুখে ঘা ছিলো। মুখে খেতে না পারায় বাচ্চাটির মুখে নল দিয়েছিলাম। অভিভাবক ভুলবশত মুখে খাওয়াতে গিয়ে নাকে-মুখে হয়ে শিশুটি অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে যায়। পরে বহু চেষ্টার পরেও আমরাকে শিশুটিকে বাঁচাতে পারিনি।
কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর জানান, শিশুটি হামের পাশাপাশি অন্যান্য রোগে আক্রান্ত ছিলো। আমাদের চিকিৎসকরা বহু চেষ্টার পরেও বাঁচাতে পারেনি শিশুটিকে।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের পরিসংখ্যান বিভাগের তথ্যমতে, ৩১ মার্চ পর্যন্ত কেবলমাত্র কক্সবাজার সদর হাসপাতালে হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে ১১৯ টি শিশু। বুধবার ( ০১ এপ্রিল ) পর্যন্ত ৩৫ জন এবং বেসরকারি একটি হাসপাতালে তিনজনসহ ৩৮ শিশু ভর্তি আছে।
সিভিল সার্জন বলেন, কক্সবাজারে সাম্প্রতিক সময়ে হামের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা দিচ্ছে। জেলার মহেশখালী, হোয়াইক্যং, রামুর মিঠাছড়ি, শহরের কালুরদোকান, পাহাড়তলি, রুমালিয়ারছড়া এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি।