কক্সবাজার শহরের বৈদ্যঘোনা এলাকার জাদিপাহাড়ে ছুরিকাঘাতে সাইফুল ইসলাম (২০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী।
নিহত সাইফুল শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম পাহাড়তলী এলাকার হোসাইনের ছেলে।
জানা গেছে, স্থানীয়রা জাদিপাহাড়ে আহত অবস্থায় সাইফুলকে পড়ে থাকতে দেখে তার পরিবারকে খবর দেন। পরে স্বজনরা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, মোটরসাইকেল বিক্রিকে কেন্দ্র করে শহরের ফুলবাগ সড়কের সাগর বাদশা ও আব্বুইয়া নামে দুই ব্যক্তি সাইফুলকে জাদিপাহাড়ে ছুরিকাঘাত করেন। মৃত্যুর আগে সাইফুল ওই দুজনের নাম বলে গেছেন বলে দাবি করেছেন তার মা ছেনোয়ারা বেগম।
ছেনোয়ারা বেগম জানান, কয়েক মাস আগে আবদুল হকের ছেলে হোসেনের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল কেনেন সাইফুল। পরে মোটরসাইকেলটি বিক্রিকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গের সামনে ছেনোয়ারা বেগম বিলাপ করে ছেলের হত্যার বিচার দাবি করেন।
ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, জাদিপাহাড়ে যুবক খুনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, নিহত সাইফুল ও অভিযুক্তরা পরস্পরের বন্ধু এবং বিভিন্ন অপকর্মে একসঙ্গে জড়িত ছিলেন।
তিনি বলেন, সাইফুল যে মোটরসাইকেলটি কিনেছিলেন, সেটি কিছুদিন আগে পুলিশ আটক করেছিল। মোটরসাইকেলের যে কাগজপত্র উপস্থাপন করা হয়েছিল, সেগুলো ভুয়া ছিল। এ বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। রোববার একসঙ্গে মাদক সেবনের পর ওই বিষয় নিয়ে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে সাইফুল ছুরিকাঘাতে নিহত হন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ওসি আরও বলেন, সাইফুলকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় অভিযুক্ত সাগর বাদশার বিরুদ্ধে ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে অর্ধডজনের বেশি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি মামলায় ইতোমধ্যে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, এখনো নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তবে অভিযুক্তদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে। মরদেহের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।