কক্সবাজার জেলার পুলিশের সেবার মান বাড়াতে নতুন ৩০০ জন পুলিশ নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জেলা পুলিশের চাহিদা মোতাবেক ধাপে ধাপে এই সংখ্যা বাড়ানো হবে। এর মধ্যে আগামী মাসের শুরুতেই জেলা পুলিশ প্রথম ধাপে নতুন জনবল যোগ পাচ্ছে।
গতকাল কক্সবাজার জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটি বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রশাসন সহ নারী সংসদ সদস্য।
জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, শিশু কিশোর, রোহিঙ্গা সহ কক্সবাজারবাসীর সেবার জন্য জেলায় মাত্র ১ হাজার ৫ শ ৫৮ জন পুলিশ রয়েছে। এনিয়ে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রন রাখতে জেলা পুলিশ হিমশিম খায়। বিষয়টি নিয়ে দৈনিক কক্সবাজার গতকাল বৃহষ্পতিবার ‘৫০ লাখ লোকের সেবায় দেড় হাজার পুলিশ’ শিরোনোমে প্রধান প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনের দেখিয়ে জেলা পুলিশের সেবার মান বাড়াতে জনগনের নিরাপত্তা বাড়াতে নতুন জনবল বাড়ানোর দৃষ্টি আকর্ষণ করে আইশৃঙ্খলা কমিটিতে উপস্থিতরা।বিজ্ঞাপন পরিষেবা
এবিষয়ে কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান বলেন, জনবল সংকটের বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা সভায় আলোচনা হয়েছে। আমরা ৩০০ জন নতুন পুলিশ বাড়ানোর কথা বলেছি। মন্ত্রীর কাছে জনবল বাড়ানোর অনুরোধের পর আগামী মাস থেকেই চাওয়া জনবলের একটি অংশ কক্সবাজারে যুক্ত হচ্ছে।
তবে প্রথম ধাপে কতজন সদস্য আসছেন এবং তাঁদের কোন কোন থানা বা এলাকায় দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি। নতুনরা আসার পরই এব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।স্থানীয় ট্যুর খুঁজুন
এবিষয়ে নারী সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য শামীম আরা স্বপ্না বলেন, জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জনবল চাওয়া হয়েছে। মন্ত্রী জনবল বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিকে, জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কক্সবাজার জেলা পুলিশে কর্মরত সদস্য ১ হাজার ৫৫৮ জন। মঞ্জুরীকৃত জনবল ১ হাজার ৬৭৫ জন। অর্থাৎ মঞ্জুরীকৃত পদের তুলনায়ও কর্মরত সদস্য কম। এই জনবল দিয়ে জেলার থানা, তদন্তকেন্দ্র ও পুলিশ ফাঁড়ির নিয়মিত দায়িত্বের পাশাপাশি মামলা তদন্ত, আসামি গ্রেপ্তার, ওয়ারেন্ট তামিল ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে। অতিরিক্ত ৩০০ জন জনবল চাওয়ার পেছনে জেলার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও তদন্তের বাড়তি চাপকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখছে পুলিশ। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে কক্সবাজার জেলা পুলিশের হিসাবে বিভিন্ন অপরাধে ৩ হাজার ৩৯৯টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে মাদক-সংক্রান্ত মামলা ১ হাজার ৪৯টি। খুনের মামলা ৯৭টি, চুরি ১৬০টি এবং চোরাচালানের মামলা ১০২টি।
সীমান্তবর্তী উখিয়া-টেকনাফে পুলিশের ওপর মামলার চাপ আরও বেশি। টেকনাফ থানায় মাসে ১২০ থেকে ১২৫টি মামলা হয়। একজন তদন্ত কর্মকর্তাকে একই সময়ে ৩০ থেকে ৪০টির বেশি মামলা তদন্ত করতে হয়। মামলা তদন্তের পাশাপাশি আসামি গ্রেপ্তার, ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সাক্ষ্যগ্রহণ, ওয়ারেন্ট তামিল ও তদন্ত প্রতিবেদন তৈরির কাজও করতে হয়।
বিশেষ সভার সভাপতি জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পুলিশে জনবল বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে লোক দেওয়া হলে সেটি ধীরে ধীরে জেলা পুলিশে সংযুক্ত করা হবে।
এদিকে সভাশেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী বলেন, কক্সবাজারের মতো অপরাধপ্রবণ রুটে পুলিশের শক্তি প্রয়োজনের তুলনায় বেশি থাকা দরকার। অথচ এখানে নাকি জন বল সংকট। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে দ্রুত এখানে নতুন জনবল দেয়া হবে। এখানে সবচেয়ে চৌকস, দক্ষ ও কার্যকর পুলিশ সদস্যদের বিশেষ অ্যাসাইনমেন্ট বা মিশনে দায়িত্ব দেওয়া হবে।স্থানীয় ট্যুর খুঁজুন
মন্ত্রী বলেন, শুধু পুলিশ নয়, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা এবং সার্বিক সরকারি কার্যক্রম নিয়ে বিশেষ সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা সহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন