সুজাউদ্দিন রুবেল::
পর্যটন নগরী কক্সবাজারে প্রথমবারের মতো হচ্ছে বহুমুখী পাট পণ্যের একক মেলা। পাঁচ দিনব্যাপী এই মেলায় ৩১টি স্টলে রয়েছে ২৮৩টি পাটপণ্য।
মেলায় পাটপণ্যের বহুমুখী ব্যবহার দেখে অনেকটাই মুগ্ধ হচ্ছে ক্রেতা-দর্শনার্থীরা। আর উদ্যোক্তারাও জনসাধারণকে বহুমুখী পাটপণ্যের সঙ্গে পরিচিতি করাতে পেরে দারুণ খুশি।
এদিকে পাটপণ্যকে সম্প্রসারিত করে বিশ্ববাজারে রপ্তানি আয় বাড়াতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুর রউফ।
সারি সারি স্টল; স্টলে শোভা পাচ্ছে হরেক রকম রঙ-বেরঙের পণ্য। কোন স্টলে রয়েছে সেমিনার, ল্যাপটপ, স্কুল বা মোবাইল ব্যাগ; আবার অন্য কোনো স্টলে রয়েছে শপিং, হ্যান্ড, গ্রোসারি বা মানি ব্যাগ। আবার অনেক স্টলে রয়েছে বিজনেস, ম্যাগাজিন ও পেপার হোল্ডার, বক্স ফাইল, টিস্যু বক্স কভার, ডেক্স ক্যালেন্ডার। এ ছাড়া রয়েছে বেড, কুশন, সোফার কভার, কম্বল, পর্দা, টেবিল রানার, টেবিল ম্যাট, কার্পেট, ডোর ম্যাট, শতরঞ্জি এবং পরিধেয় বস্ত্র ব্লেজার, ফতুয়া ও শাড়ি। এসব পণ্য সবই তৈরি হয়েছে পাট দিয়ে। যা দেখে অনেকটাই মুগ্ধ হচ্ছে ক্রেতা-দর্শনার্থীরা। আর বহুমুখী পাটপণ্যের সঙ্গে ক্রেতাদের পরিচয় করাচ্ছেন উদ্যোক্তারা।
জার্মানিশনের স্বত্বাধিকারী কাউসারুনন্নেছা বলেন, এই প্রথম কক্সবাজারে বহুমুখী পাটপণ্যের একক মেলা হচ্ছে। ফলে স্টল নিয়ে কক্সবাজারে হাজির হলাম। স্টলে ৮টি মতো পাটপণ্য রয়েছে। যেগুলো ঘর সাজানোর কাজে ব্যবহার হয়। দর্শনার্থী এবং ক্রেতা খুবই আগ্রহের সঙ্গে পণ্যগুলো দেখছে এবং ক্রয় করছে। অনেক দর্শনার্থী নতুন নতুন পাটপণ্যের দেখে মুগ্ধ হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ৪৩ দেশে ফার্নিচার মেশিনারিজ রফতানি করছেন বাংলাদেশি উদ্যোক্তা
অগ্রজ স্টলের বিক্রেতা শরীফ বলেন, আমরা সম্পূর্ণ পাটজাত পণ্য নিয়ে কক্সবাজার হাজির হয়েছি। যেগুলো প্রাকৃতিক ও পরিবেশ বান্ধব। বর্তমানে বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে পরিবেশ অনেকটায় ঝুঁকির সম্মুখীন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি, পাটপণ্যের ব্যবহার সম্পর্কে মানুষ জানুন এবং পাটপণ্য ব্যবহার করলে পরিবেশটা রক্ষা পাবে।
মেলা দেখতে আসা দর্শনার্থী ইকরাম চৌধুরী টিপু বলেন, মেলায় আসলাম, এটাই প্রথম বহুমুখী পাটপণ্যের একক মেলা কক্সবাজারে হচ্ছে। প্লাস্টিক এবং পলিথিন যদি বর্জন করতে হয়, তাহলে বিকল্প হিসেবে পাটজাত পণ্যেই ব্যবহার করতে হবে। পাটজাত পণ্য ব্যবহার করতে পারলেই পরিবেশ দূষণরোধ হবে।
আরেক দর্শনার্থী বশির আহমেদ বলেন, মহেশখালী উপজেলা থেকে কক্সবাজার শহরে কাজে এসেছিলাম। পরবর্তীতে দেখি শহীদ দৌলত ময়দানে মেলা হচ্ছে তাই মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করলাম। মেলায় বহুমুখী পাটপণ্যের ব্যবহার দেখে সত্যিই আনন্দিত। এ ছাড়া অবাক হয়ে গেলাম পাট দিয়ে যে এত ধরনের পণ্য তৈরি হয় দেখে। পাটপণ্যের ব্যবহার বিষয়ে অনেক কিছু জানতে পারলাম মেলায় এসে।
সোমবার (২৮ মার্চ) দুপুরে কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরির শহীদ দৌলত ময়দানে শুরু হয় ৫ দিনব্যাপী প্রথমবারের মতো বহুমুখী পাট পণ্যের একক মেলা। মেলায় আয়োজন করা হয় পাটের তৈরি কাপড় দিয়ে ফ্যাশন শো’র। যেখানে তুলে ধরা হয় পাট পণ্যের ভালো দিক ও প্লাস্টিক এবং পলিথিনের ক্ষতিকর দিকগুলো।
পাটপণ্যের ফ্যাশন ডিজাইনার আমির হোসেন রঙ্গন বলেন, প্লাস্টিক ও পলিথিন বিশ্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য বাংলাদেশের পাট যে একমাত্র সমাধান এবং বাংলাদেশের পাট যে সারা বিশ্বের এই সমস্যা সমাধান করতে পারে তাই ফ্যাশন শোতে তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে পোশাক খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ফলে পাট দিয়ে পোশাক তৈরি করে ৯ মাস শীতপ্রধান দেশগুলোতে বিক্রি করা যায় তাতে প্রচুর পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করার সম্ভব।
এদিকে ৫ দিনব্যাপী মেলার উদ্বোধনী বক্তব্যে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুর রউফ বলেন, কক্সবাজার একটি পর্যটন জেলা। পাটজাত পণ্যগুলো খুব সৌখিন পণ্য; তাই এখানে বহুমুখী পাটপণ্যের একক মেলাটা সফল হবে বলেই কক্সবাজারে আয়োজন করা।
তিনি আরও বলেন, ‘সোনালি আঁশে সোনার দেশ; পরিবেশ বান্ধব বাংলাদেশ’ এই স্লোগান নিয়ে এ বছর পাট দিবস আয়োজন করি। তার কারণ হচ্ছে, পাটপণ্যের বিকল্প যেগুলো আছে প্লাস্টিক ও পলিথিন; যা আমাদের এই সোনালি আঁশকে পিছিয়ে দিয়েছে অনেকটা। এখন কিন্তু জাতিসংঘসহ বিভিন্ন জায়গা সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাকৃতিক তন্তু থেকে বেরিয়ে পরিবেশবান্ধব পচনশীল পণ্যের ব্যবহারের দিকে এগুতে হবে। সেক্ষেত্রে নতুনভাবে পাটের দ্বার উন্মোচিত হয়েছে বিশ্বব্যাপী। এখন যদি বাংলাদেশ পাটপণ্যের প্রসার সম্প্রসারিত করতে পারি, বিশ্ববাজার ধরতে পারব এবং পাটের যে বহুমুখী ব্যবহার এটার মাধ্যমে আমাদের রফতানি আয়ও বৃদ্ধি করা সম্ভব।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেডিপিসির অতিরিক্ত সচিব ও নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবুল কালাম ও কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মানুনুর রশীদ প্রমুখ।
মেলায় ৩১টি স্টলে বিক্রি হচ্ছে বহুমুখী পাট দিয়ে তৈরি পণ্য। প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এ মেলা চলবে।