নিউজ ডেস্ক::
একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে চট্টগ্রাম (উত্তর ও দক্ষিণ), কক্সবাজার ও খাগড়াছড়ি থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন ৪ জন। দক্ষিণ চট্টগ্রাম থেকে আবারও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রয়াত প্রেসিডিয়াম সদস্য আতাউর রহমান খান কায়সারের মেয়ে মহিলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ওয়াসিকা আয়েশা খান। উত্তর চট্টগ্রাম থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন ফটিকছড়ির সাবেক সংসদ সদস্য রফিকুল আনোয়ারের মেয়ে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য খাদিজাতুল আনোয়ার সনি। কক্সবাজার থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন কানিজ ফাতেমা আহমেদ। খাগড়াছড়ি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন বাসন্তী চাকমা। গতকাল শুক্রবার রাত সোয়া ১০টার দিকে সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হয়। গণভবনে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে দলটির সংসদীয় বোর্ড ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের যৌথ সভা শেষে ৪১ নারী সংসদ সদস্যের নাম ঘোষণা করা হয়। নাম ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান জানিয়েছেন, দশম সংসদে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগের সাংসদ ছিলেন ৩৯ জন। তাদের মধ্যে শুধু ফজিলাতুন নেসা ও ওয়াসিকা আয়েশা খান এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন।
এদিকে, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার আনোয়ারা উপজেলা থেকে ওয়াসিকা আয়েশা খান নারী সংসদ সদস্যের মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি দশম সংসদেরও এমপি ছিলেন। নেতাকর্মীদের মুখে মুখে ছিল, মেধা ও যোগ্যতার কারণে তিনি আবারও মনোনয়ন পেতে পারেন। শেষ পর্যন্ত আবার এমপি হতে যাচ্ছেন। ওয়াসিকা মহিলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।
উত্তর চট্টগ্রাম থেকে ফটিকছড়ির সাবেক সংসদ সদস্য রফিকুল আনোয়ারের মেয়ে খাদিজাতুল আনোয়ারা সনি মনোনয়ন পেয়েছেন। গতকাল রাতে গণভবন থেকে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের নাম ঘোষণার পর এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি আজাদীকে বলেন, আমি প্রথমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আমার প্রাণঢালা শ্রদ্ধা জানাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার বাবার অবর্তমানে আমাদের পরিবারকে মনে রেখেছেন এবং আমাকে আরো বড় পরিসরে দলের জন্য কাজ করার সুয়োগ করে দিয়েছেন। আমি আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান। আমার পিতা আমৃত্যু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নীতি-আদর্শের প্রতি অবিচল ছিলেন। অনেক নির্যাতন সহ্য করেও তিনি দলের জন্য কাজ করেছেন। আমার পিতার অবর্তমানে ফটিকছড়িবাসী তাঁর যোগ্য উত্তরসুরি হিসেবে আমাকে চায়। তাঁর অবর্তমানে ফটিকছড়িবাসীর স্বপ্ন পূরণে কাজ করে চলেছি। একদিনের জন্যেও আমার প্রিয় ফটিকছড়িবাসীর কাছ থেকে দূরে থাকিনি। আমার বাবা এই ফটিকছড়ির মানুষের জন্য এবং দলের জন্য জীবন-যৌবন সব ত্যাগ করেছেন। বাবার অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করার জন্য আওয়ামী লীগ পরিবারের অভিভাবক, আমাদের প্রাণপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন। তাঁর নির্দেশনা মেনে দলের জন্য কাজ করব।
কঙবাজার প্রতিনিধি আহমদ গিয়াস জানান, কঙবাজার থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন কঙবাজার জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী কানিজ ফাতেমা আহমেদ। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি আজাদীকে বলেন, তিনি কঙবাজারসহ তার দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকার শিক্ষা, পরিবেশ, পর্যটন, আইন-শৃঙ্খলা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে কাজ করবেন। বিশেষ করে অবহেলিত ও হতদরিদ্র মহিলাদের উন্নয়নে তাঁর নানা পরিকল্পনা রয়েছে।
কানিজ ফাতেমা জেলা মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যানও। তিনি দশম সংসদ নির্বাচনে কঙবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনে মহাজোটের প্রার্থী ছিলেন। তিনি এ আসনের সাবেক এমপি ও বর্তমান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ চৌধুরীর স্ত্রী।
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি সমির মল্লিক জানান, সংরক্ষিত মহিলা আসনে তিন পার্বত্য জেলার প্রতিনিধি হিসেবে নারী সংসদ সদস্যের মনোনয়ন পেয়েছেন বাসন্তী চাকমা। প্রথমবারের মতো খাগড়াছড়ি থেকে মহিলা এমপি মনোনয়ন দেওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।
প্রথমবারের মতো মনোনয়ন পাওয়ায় দল এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বাসন্তী চাকমা বলেন, আমি সুসময়ে, দুঃসময়ে সবসময়ে আওয়ামী লীগের পাশে থেকেছি আর আজীবন থাকব। আমার আদর্শ বঙ্গবন্ধু। আমার নেত্রী আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। আমি পার্বত্য এলাকায় পিছিয়ে পড়া নারীদের উন্নয়নে কাজ করব। নারীদের কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দেব।
৪১ জনের নাম ঘোষণা
চট্টগ্রাম, কঙবাজার ও খাগড়াছড়ি থেকে ৪ জন ছাড়াও আছেন আরো ৩৭ জন। এর মধ্যে আছেন সমাজকর্মী আরমা দত্ত ও অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা। ভোটের প্রচারে রূপালি জগতের তারকাদের মধ্যে সুবর্ণা মুস্তাফাও ছিলেন। দুদিন আগে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন। সমাজকর্মী আরমা দত্ত তার পৈত্রিক এলাকা কুমিল্লা থেকে সংরক্ষিত আসনের সাংসদ হবেন। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য আরমা ১৯৮০ সাল থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে নারী জাগরণ ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করেন। স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৬ সালে পান বেগম রোকেয়া পদক। পাকিস্তানের গণপরিষদে প্রথম বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি তোলা ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত তাঁর দাদা। একাত্তরে তাঁর দাদা ও কাকা দিলীপ দত্তকে হত্যা করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী।
অন্যরা হলেন, কুমিল্লার আন্জুম সুলতানা, বরগুনার সুলতানা নাদিরা, জামালপুরের হোসনে আরা, গাজীপুরের রুমানা জলি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম, নেত্রকোণার হাবিবা রহমান খান, পিরোজপুরের শেখ এ্যানি রহমান, টাঙ্গাইলের অপরাজিতা হক, সুনামগঞ্জের মোসাম্মৎ শামীমা আক্তার খানম, গাজীপুরের শামসুন্নাহার ভুঁইয়া, মুন্সীগঞ্জের ফজিলাতুন নেসা, নীলফামারীর রাবেয়া আলিম, নরসিংদীর তামান্না নুসরাত বুবলি, গোপালগঞ্জের নার্গিস রহমান, ময়মনসিংহের মনিরা সুলতানা, ঢাকার নাহিদ ইজহার খান, ঝিনাইদহের মোছাম্মত খালেদা খানম, বরিশালের সৈয়দা রুবিনা মীরা, পটুয়াখালীর কাজী কানিজ সুলতানা, খুলনার অ্যাডভোকেট গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার, দিনাজপুরের জাকিয়া তাবাসসুম, নোয়াখালীর ফরিদা খানম, ফরিদপুরের রুশেমা বেগম, কুষ্টিয়ার সৈয়দা রাশিদা বেগম, মৌলভীবাজারের সৈয়দা জোহরা আলাউদ্দিন, রাজশাহীর আদিবা অঞ্জুম মিতা, খুলনার শিরিনা নাহার, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফেরদৌসী ইসলাম জেসি, শরীয়তপুরের পারভীন হক সিকদার, রাজবাড়ীর খাদেজা নুসরাত, ঢাকার শবনম জাহান শিলা, নেত্রকোণার জাকিয়া পারভীন খানম, মাদারীপুরের তাহমিনা বেগম, ঢাকার শিরিন আহমেদ ও জিন্নাতুল বাকিয়া।
বাংলাদেশে ৩৫০ আসনের সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত ৫০টি আসন। ৩০০ আসনে সরাসরি ভোট হলেও সংরক্ষিত আসন বণ্টন হয় ভোটে জয়ী দলগুলোর আসন সংখ্যার অনুপাতে। আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে এবার আওয়ামী লীগ ৪৩টি আসন পেতে পারে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।