
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডাব্লিউ) বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি নিয়ে যতটা সরব, এখন ঠিক ততটাই নীরব মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে। এইচআরডাব্লিউ গতকাল সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে রোহিঙ্গাদের জন্য অস্থায়ী আবাসস্থল নোয়াখালীর ভাসানচরকে ‘সাগরের মাঝখানে কারাগার’ বলে অভিহিত করেছে। অথচ কিছুদিন আগেই জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধিরা ভাসানচরকে কক্সবাজারের চেয়ে অনেক ভালো বলে মূল্যায়ন করেছেন। এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সভাপতি ভোলকান বোজকির বাংলাদেশ সফরকালে বলেছেন, সংকটের সময়ে উদ্বাস্তুদের কিভাবে সহযোগিতা করতে হয়, ভাসানচর তার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
মিয়ানমারে জেনোসাইড, গণহত্যা, জাতিগত নির্মূলসহ গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের মুখে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়া অন্য কোনো দেশ তাদের আশ্রয় দেয়নি। সাড়ে তিন বছরের বেশি সময় পরও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রোহিঙ্গাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় মিয়ানমারের ওপর ন্যূনতম চাপ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ সরকার কক্সবাজারের ওপর চাপ কমাতে এক লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে। এরই মধ্যে ১৮ হাজার রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়েছে। সরকার কক্সবাজার থেকে আরো প্রায় ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে বর্ষার পর আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে ভাসানচরে নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে এবং এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়েছে। জাতিসংঘ যখন ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার জন্য পরিকল্পনা করছে, তখন এইচআরডাব্লিউ গতকাল সোমবার ভাসানচরকে ‘কারাগার’ আখ্যা দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ভাসানচর নিয়ে আন্তর্জাতিক কিছু বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ও গণমাধ্যমের অব্যাহত নেতিবাচক প্রচারণায় ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ সরকার। গত ১ জুন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ‘অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক। বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের জন্য যেকোনো ব্যবস্থা তা কক্সবাজারে বা ভাসানচরে হোক না কেন, তা তাদের দেশে ফেরার আগে পুরোপুরি অস্থায়ী ভিত্তিতে।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ভাসানচরে রোহিঙ্গা স্থানান্তর নিয়ে বিদেশি এনজিও কর্মীদের একাংশের বিরোধিতা প্রসঙ্গে বলেছেন, ওই এনজিওগুলোর কর্মীরা নিজেদের ব্যক্তিগত সুযোগ-সুবিধা, আরাম-আয়েশের জন্য ভাসানচরে যেতে চান না। বাংলাদেশ তার দায়িত্ব পালন করছে। ওই এনজিওসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত, মিয়ানমারের দিকে দৃষ্টি দেওয়া এবং সেখানে রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি করা।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিধনযজ্ঞ চলার সময় এইচআরডাব্লিউ রাখাইনে ধ্বংসযজ্ঞের কিছু উপগ্রহ চিত্র প্রকাশ করেছিল। গত বছর অক্টোবর মাসে এইচআরডাব্লিউ রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ তাদের দেশে এইচআরডাব্লিউকে ঢুকতেই দেয় না। এ কারণে এইচআরডাব্লিউ ছাড়াও বিভিন্ন দেশের দৃষ্টি মূলত বাংলাদেশের দিকে। সুত্র: কালেরকন্ঠ