
বঙ্গোপসাগরের কক্সবাজার উপকূলে ট্রলার ডুবিতে ৮ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো নিখোঁজ রয়েছে ১১ জন জেলে।
শুক্রবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে নাজিরারটেক পয়েন্টে ট্রলার ডুবি ঘটনা ঘটলেও দীর্ঘ ২ ঘন্টা সাগরে ভেসে থাকার পর জেলেদের উদ্ধার করে স্থানীয় জেলে ও কোস্টগার্ড। উদ্ধার জেলেদের মধ্যে একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দিয়েছে কোস্টগার্ড।
লঘুচাপের কারণে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে। আবহাওয়ার অফিস থেকে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করে। যার প্রভাবে সাগর উত্তাল রয়েছে। তাই গভীর সাগর থেকে মাছ শিকার না করে উপকূলে ফিরছিলেন ১৯ মাঝিমাল্লা নিয়ে কক্সবাজারের খুরুশকুল লামাজিপাড়ার জাকের সওদাগরের এফবি মায়ের দোয়া ট্রলার। কিন্তু ফেরার পথে শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে নাজিরারটেক পয়েন্টে বিশাল ঢেউয়ের আঘাতে উল্টে যায় ট্রলারটি।
এরপর জেলেরা সাগরে ভাসতে থাকে। ১টি লাইফ জ্যাকেট ধরে ২ ঘন্টা ভাসছিলো ৪ জেলে আর ১টি ড্রাম ধরে ভাসছিলো আরও ৪ জন জেলে। পরে সাগর থেকে ফিরে আসা অন্য ট্রলারের জেলেদের সাহায্যে উদ্ধার করা হয় এই ৮ জেলেকে। পরে কোস্টগার্ড ঘটনাস্থলে গিয়ে ৮ জেলেকে দ্রুত উপকূলে নিয়ে আসে।
শুক্রবার রাত ৮টার দিকে এসব ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছেন উদ্ধার হওয়া জেলেরা। উদ্ধার হওয়া জেলেরা হলেন : মোহাম্মদ আলম, রাশেদ, ফরিদ, হাফেজ, বখতিয়ার, আবুল হোসেন, আবুল কাশেম ও মাত আলম। তারা সবাই কক্সবাজার সদরের খুরুশকুল পূর্ব হামজার ডেইল এলাকার বাসিন্দা।
উদ্ধার হওয়ার জেলেদের মধ্যে মোহাম্মদ আলম (৫০) বলেন, শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে বিশাল একটি ঢেউয়ে ট্রলার উল্টে যায়। এতে ট্রলারে থাকা ১৯ জন জেলে সাগরে ভাসতে থাকে। ১৯ জনের মধ্যে আমিসহ রাশেদ, ফরিদ, হাফেজ এই ৪ জন একটি লাইফ জ্যাকেট ধরে প্রায় ২ ঘন্টা ভাসতে থাকি। এক পর্যায়ে সাগর থেকে ফেরার পথে ২টি ট্রলার আমাদের উদ্ধার করে। এরপর ঘটনাস্থলে কোস্টগার্ড এসে দ্রুত চিকিৎসা জন্য কক্সবাজার উপকূলে নিয়ে যায়। এখন মোটামুটি সুস্থ রয়েছি।
উদ্ধার হওয়ার আরেক জেলে বখতিয়ার (৫২) বলেন, “রাখে আল্লাহ, মারে কে। ১টি ড্রামে ৪ জন জেলে ২ ঘন্টা ভাসতে থাকি। এক পর্যায়ে মনে হয়, ভাসতে ভাসতে সাগরে মারা যাচ্ছি। কিন্তু হোঁট করে কোস্টগার্ড এসে আমাদের উদ্ধার করে।
ঘটনার পরপর নিখোঁজ জেলেদের সন্ধানে নাজিরারটেক মোহনায় যায় স্বজন। নিখোঁজরা ফিরছেন এই অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন উপকূলে।
নিখোঁজ হওয়া জেলে হামিদুল হকের মামা হেলাল বলেন, ট্রলার ডুবির ঘটনায় এলাকায় কান্নাকাটি হয়ে যায়। তাই ভাগিনা হামিদুল হকের খুঁজে নাজিরারটেক উপকূলে এসেছি। কিন্তু সন্ধ্যা ৬ টায় পর্যন্ত কোন খবর পাওয়া যায়নি। অপেক্ষা করছি কখন ফিরবে।
উদ্ধার ৮ জেলেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয় কোস্টগার্ড কার্যালয়ে। এদের মধ্যে ১ জনের অবস্থায় আশঙ্কাজনক হওয়ায় ভর্তি করা হয় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে। আর নিখোঁজ বাকি জেলেদের উদ্ধার কাজ করছে স্থানীয় জেলেসহ কোস্টগার্ড। আর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায় পুলিশ, কোস্টগার্ড ও জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক নাজমুল আলম বলেন, এখনো পর্যন্ত জীবিত ৮ জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি জেলেরা এখনো নিখোঁজ রয়েছে। নিখোঁজ জেলে এবং ডুবে যাওয়া ট্রলারটি উদ্ধারে কোস্টগার্ডকে অবহিত করা হয়েছে। তারাসহ স্থানীয় জেলেরা উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছে।
গেলো মঙ্গলবার ১৯ জন মাঝিমাল্লা নিয়ে গভীর সাগরে মাছ শিকারে যায় কক্সবাজার সদরের খুরুশকুল এলাকায় জাকের সওদাগরের এফবি মায়ের দোয়া ট্রলার।
কক্সবাজার কোস্টগার্ড অফিস জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়ার ৮ জেলের মধ্যে ১ জনকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি ৭ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এরপর খাবার খাওয়ানো হয়। এখন স্বজনদের ডেকে তাদের কাছে উদ্ধার জেলেদের হস্তান্তর করা হবে। আর বাকি নিখোঁজ জেলেদের সন্ধানে উদ্ধার কার্যক্রম চলছে বলেও জানায় কোস্টগার্ড। সুত্র: দৈনিক কক্সবাজার