শফিক আজাদ, উখিয়া নিউজ ডটকম::
উখিয়াবাসির একমাত্র সরকারী স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র উখিয়া হাসপাতালের বিরুদ্ধে একের পর এক অনিয়ম,দুর্নীতি,স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ অভিযোগ উঠেছে এক প্রসুতির কাছ থেকে টাকা আদায়ের।
জানা গেছে, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এক প্রসূতির অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে এ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার হুমায়ুর কবির টাকা আদায় করেছে। এ ঘটনায় রবিবার ৪ নবেম্বর প্রসুতির স্বামী বাদী হয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ঠ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। এ নিয়ে স্থানীয় জনমনে উত্তেজনা ও চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে । তবে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বললেন, অভিযোগ তদন্তে ৩সদস্যের টিম গঠন করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
অভিযোগের সুত্রে জানা যায়, গত ১৭ অক্টোবর সকাল ৮ টার দিকে প্রসব যন্ত্রনা কাতর হয়ে উখিয়া হাসপাতালে নিয়ে এসে ভর্তি হয় রামু খুনিয়াপালং ইউনিয়নের গোয়ালিয়াপালং ওসমান গণির মরিয়ম বেগম । দীর্ঘ ৩ঘন্টা পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মরিয়ম বেগম (প্রসূতি রোগী)র অবস্থা বেগতিক দেখে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করেন। এমতাবস্থায় জরুরী বিভাগে এসে সরকারী নাম্বার থেকে এ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার হুমায়ুন কবিরকে ফোন দেয়া হয়। ফোন দেওয়ার ২০মিনিট পর সে এসে ওসমান গণির নিকট থেকে গাড়ী ভাড়া বাবদ ৭শত টাকা দাবী করে বসে। তার কাছে এত টাকা নেই বলে অনেক আকুতি-মিনতি করলেও ড্রাইভার হুমায়ুন কবির তার কথা শুনতে চাইনি। পরিশেষে কোন রকম টাকা জোগাড় করে মরিয়মকে কক্সবাজার নিয়ে যায় তারা।
অভিযোগ আরো উল্লেখ করা হয়, বর্তমান সরকার জনগণের দৌড়গোড়ায় স্বাস্থ্য সেবা পৌছে দিতে গ্রামে গ্রামে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সব ধরনের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করেছে। আর ২০১৪ সাল থেকে সব ধরনের প্রসূতি রোগী পরিবহণের যাবতীয় ভাড়া ফ্রি করে দিয়েছে। কিন্তু উখিয়া হাসপাতালে তা কেন মানা হচ্ছেনা? এদিকে বেশ কয়েকজন সচেতন ব্যক্তি জানান, বিগত কয়েক বছর এ ধরনের অভিযোগ ছিল না। গত ৫/৬মাস ধরে প্রসূতি রোগীর নিকট থেকে ভাড়া আদায়ের কথা শোনা যাচ্ছে। তারা এসব অনিয়মের সাথে জড়িত এ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভারের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানান। এ নিয়ে অভিযুক্ত এ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার হুমায়ুন কবিরের সাথে দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল মান্নান জানান, ওসমান গণি নামের এক ব্যক্তি প্রসূতি রোগী আটকিয়ে টাকা আদায়ের একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগ পাওয়ার পর ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়াও সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী টাকা আদায় করে থাকলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।