পলাশ বড়ুয়া:[caption id="attachment_40200" align="alignleft" width="2000"]
Networking[/caption]
দেশে জ্যামিতিক হারে বেড়ে যাচ্ছে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা। প্রাথমিক পর্যায়ে মোবাইল ও বিভিন্ন ডিভাইসের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার হলেও ২০১৮ সালের পর থেকে উখিয়ায় আইএসপি ব্যবসায়ীদের তৎপরতা বেড়ে যায়। কম খরচে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারের নামে সীমান্ত উপজেলা উখিয়ায় যত্রতত্র লাইসেন্স বিহীন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপি) ব্যবসার হিড়িক পড়েছে। যেখানে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গার অবস্থানের কারণে টেলিকম কোম্পানীর নেটওয়ার্ক পর্যন্ত সীমাবদ্ধতার বিধান রয়েছে। সুনির্দিষ্ট আওতার ভিতরেই নেটওয়ার্ক সীমিত। অথচ হঠাৎ করে বেশ কয়েক মাস ধরে রোহিঙ্গা অধ্যূষিত এই এলাকায় যত্রতত্র ওয়াই-ফাই কানেকশনের নামে ইন্টারনেট সার্ভিস দেওয়ার এক ধরণের অসুস্থ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। তাদের এই প্রতিযোগিতা দেখলে মনে হয় এসব দেখভালের কেউ নেই। ফলে তথাকথিত লাইসেন্সের অজুহাত দেখিয়ে সীমান্ত জনপদে আসলে এসব হচ্ছে কি ? যদিও বিটিআরসি আইনে উপ-ভাড়ায় আইএসপি ব্যবসায় নিষিদ্ধ।
সরেজমিন দেখা যায়, সীমান্ত জনপদ উখিয়ায় এশিয়া প্যাসিফিক কমিউনিকেশন লি:, এনজেল ড্রফস লি: মেসার্স এস.জে এন্টারপ্রাইজ, বাংলা ফোন নামে বেশ কয়েকটি ইন্টারনেট সার্ভিস ব্যবসায়ী আকর্ষণীয় অফারে সংযোগ দেওয়ার লিফলেটসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।
এছাড়াও প্রতিদিন আরকান সড়কের উভয়পাশে অপরিকল্পিত ও বিচ্ছিন্ন ভাবে কেবল (তার) টানাটানি অব্যাহত রেখেছে। বিশাল রোহিঙ্গা জনগোষ্টি অধ্যুষিত এ জনপদে হঠাৎ ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠা ইন্টানেট ব্যবসায়ী নামধারীরা এ ব্যবসাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে সচেতন মহলের কাছে। এতে সরকারের নজরদারী সংস্থাসহ তদারকির সাথে দায়িত্বশীলদের নিরবতাকে কাজে লাগিয়ে তারা এসব নেট ব্যবসার নামে লক্ষ টাকা অবৈধ পন্থায় হাতিয়ে নিচ্ছে বলেও জানা গেছে।
নিয়মনীতির তোয়াক্ষা না করে দ্রুত গতির ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে অবৈধ ভিওআইপি (ভয়েস ওভার প্রটোকল) সহ রোহিঙ্গা ক্যাম্প কেন্দ্রিক অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধির আশংকা করছে সংশ্লিষ্টরা। অবৈধ ভিওআইপির কারণে শুধু যে সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হবে তা নয়, এর পাশাপাশি এটা বাড়িয়ে দিচ্ছে আমাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি। কেননা ভিওআইপি কলের মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধ শনাক্ত করা যাচ্ছে না। যা মানি লন্ডারিংয়ের প্রবণতাও বাড়িয়ে দিচ্ছে ক্রমশ: দিনদিন।
দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে উখিয়া নাগরিক অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদের মহাসচিব সিনিয়র সাংবাদিক গফুর মিয়া চৌধুরী বলেন, নিয়ম বর্হিভুত ভাবে দ্রুত গতির ইন্টারনেট সংযোগ নিয়ে অবৈধ ভিওআইপির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে লেনদেন করতে পারে অসাধু সিন্ডিকেট । প্রকৃতপক্ষে এ অবৈধ ভিওআইপির ফলে লাভবান হয় বিদেশিরা। শুধুমাত্র তথ্য প্রযুক্তি দিয়ে ভিওআইপি বন্ধ করা সম্ভব নয়। এর পিছনে রয়েছে বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক কারণ। প্রশাসনকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প কেন্দ্রিক তথ্য পাচারের বিষয়টিও খতিয়ে দেখার দাবী জানান এই গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উখিয়ার মেসার্স এস.জে এন্টারপ্রাইজ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ.আর জিহান চৌধুরী বলেন, মাঠ পর্যায়ে উখিয়ায় ৪টি প্রতিষ্ঠান ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবসা করছে। এর মধ্যে বাংলাফোন নামে প্রতিষ্ঠানের আইএসপি লাইসেন্স বিটিআরসি কর্তৃপক্ষ বাতিল করেছে এমন চিঠি হাতে পেয়েছি। অপর দুইটি প্রতিষ্ঠান কিভাবে ব্যবসা করছে তা তিনি জানেন না। অবশ্যই এটা খতিয়ে দেখা দরকার।
তিনি বলেন, এসব কোম্পানী গুলো নিম্নমানের প্যাকেজ দিয়ে ইন্টারনেট সার্ভিস ব্যবসাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে। তিনি বৈধ লাইসেন্স নিয়ে এ তাঁর ব্যবসা পরিচালনার কথাও জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ইন্টারনেট বা বিটিসিএল এর কানেকশন ব্যবসার জন্য ঢাকা থেকে অনুমতি নিতে হয়। তবে ক্যাবল টিভি ব্যবসার ক্ষেত্রে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বিটিভি এই ব্যবসা অনুমোদন দেন। তিনি বলেন আইএসপি ব্যবসার বিষয়ে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের সাথে কথা হয়েছে। নিয়ন্ত্রণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের গাইডলাইন মেনে কাজ শুরুর কথা জানান। তবে সার্ভিস কিংবা কোন ধরণের বিশৃঙ্খলার খবর পেলে ভোক্তা অধিকার আইনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। সুত্র: সিএসবি