
উখিয়ার অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে সর্বত্র চলছে সরকারি পাহাড় কর্তনের মহোৎসব। ৩ শতাধিক রুট পারমিট বিহীন অবৈধ ডাম্পার ভর্তি করে মাটি ব্যবসা করছে ২৫ টি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। পরিবেশবাদী সংগঠনের অভিমত পাহাড় সংরক্ষণ ও মাটি কর্তন থামাবে কে?
কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ হুমায়ুন কবির জানান পাহাড় কর্তন বন্ধে সকল রেঞ্জ কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও স্পেশাল টহল দল অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
তিনি অপর এক প্রশ্নের জবাবে পাহাড় কর্তন বন্ধে বন বিভাগের পাশাপাশি স্থানীয় নাগরিক সমাজকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।
স্থানীয় সুশীল সমাজের দাবি, রেঞ্জ কর্মকর্তা ও বিট কর্মকর্তাদের ওপেন মাটি বাণিজ্যের কারণে আজ একের পর এক পাহাড় কর্তন করে মাটি গিলে খাচ্ছে সিন্ডিকেট সদস্যরা। বন বিভাগ সম্পূর্ণ রহস্যজনক ভূমিকা পালন করছে। এমনকি রাতের বেলায় অসংখ্য ডাম্পার ভর্তি করে মাটি পাচার দেখলে মনে হয় সরকারি পাহাড় গুলো পাচারকারীদের নিকট লিজ দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, উখিয়া রেঞ্জের ওয়ালা পালং বনবিটের অধীনে রাজা পালংয়ের উত্তর পুকুরিয়ায় বেলালের নেতৃত্বে একটি মাটি খেকো সিন্ডিকেট বিশাল পাহাড় কর্তন করে ডাম্পার যোগে মাটি পাচার করছে। স্হানীয় গ্রামবাসীর অভিযোগ পাহাড়ের মাটি ভর্তি ডাম্পারের বেপরোয়া চলাচলের কারণে রাস্তা বিধ্বস্ত হয়ে লন্ডভন্ড হয়ে যাচ্ছে।
জানা গেছে, গত শনিবার রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন আহমেদ সাড়াশি অভিযান চালিয়ে মাটি খেকো বেলালের একটি ডাম্পার সহ ৩ টি ডাম্পার জব্দ ও ড্রাইভারকে আটক করে।
গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, রত্না পালংয়ের ভালুকিয়া সড়কের পাশে কয়েকটি পাহাড় কর্তনের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে । প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়ে মাটি ভর্তি ডাম্পার চলাচল করলেও তারা দেখছে না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উখিয়া পল্লী বিদ্যুত অফিসের বিশাল জায়গা ভরাট করছে মাটি খেকোরা। থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ টোকেন বাণিজ্য করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ।
এদিকে ইনানী রেঞ্জের জালিয়াপালং বনবিটের আওতায় ইতোমধ্যে ৩০ টির অধিক পাহাড় কর্তন করে বিরাণ ভূমিতে পরিণত করা হয়েছে। অভিযোগে প্রকাশ বিট কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে মাটি খেকো সিন্ডিকেট ইনানী জুম্মা পাড়া, সোনাই ছড়ি ও সোনার পাড়ার পাহাড় গুলো অঘোষিত ভাবে লীজ নিয়ে গেছেন। বিনিময়ে পাচ্ছেন মোটা অংকের টাকা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান জুম্মাপাড়া গ্রামের কালাচান্দর গুনা এলাকায় ২০১২ সালের সামাজিক বনায়ন সাবাড় করে একের পর এক পাহাড় কর্তন করে চলছে। সন্ধ্যা শুরু হলেই পাহাড় গুলোতে চলে ধ্বংশযজ্ঞ। অসংখ্য ডাম্পার যোগে কোট বাজার ও তার আশে পাশের বিশাল বিশাল জায়গা ভরাট করা হচ্ছে।
অপরদিকে উখিয়া রেঞ্জের মাছকারিয়া, মধুর ছড়া, তুতুরবিল ও হরিণমারা এলাকায় পাহাড় কর্তন রীতিমতো সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে। উপজেলা প্রশাসন, বন বিভাগ পুলিশ বাহিনী পরিবেশ অধিদপ্তর ও বনবিভাগের স্পেশাল টহল দল থাকতে প্রকাশ্যে পাহাড় কর্তন করে ডাম্পার যোগে মাটি পাচার করছে তা কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছে না নাগরিক সমাজ। কর্তৃপক্ষের নাকের ডগায় কিভাবে ৩ শত ডাম্পার চলাচল করে। যার একটিরও বৈধ রোড পারমিট নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসাইন আবু বলেন উখিয়া রেঞ্জ এবং ইনানী রেঞ্জের ৯ টি বন বিটে ইতোমধ্যে অর্ধশতাধিক পাহাড় মাটি কর্তন করে মরুভূমিতে পরিণত করছে। এতে করে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মাহবুবুল ইসলাম বলেন উখিয়ায় ব্যাপক হারে পাহাড় কর্তন বিষয়টি আমরা সরেজমিনে সত্যতা পেয়েছি। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন ইতিমধ্যে পাহাড় খেকোদের বিরুদ্ধে ৬ টি মামলার সুপারিশ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় প্রেরণ করা হয়েছে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন আহমেদ জানান, পাহাড় সংরক্ষণে অবৈধ ভাবে মাটি কর্তন ও বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে একাধিক ডাম্পার জব্দসহ পরিবেশ ধ্বংশ কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েক জনকে আটক করা হয়। এ ছাড়াও সহকারী কমিশনার (ভূমি)র নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালতও পরিচালনা করা হচ্ছে ।
স্থানীয় চেয়ারম্যান মেম্বার ও নাগরিক সমাজের একটাই দাবি পাহাড় কর্তন ও মাটি পাচার থামাবে কে?
সুত্র: দৈনিক কক্সবাজার