হুমায়ুন কবির জুশান, উখিয়া:
সরকারি হাসপাতালের কথা শুনলেই ভ্রু কুজকে যায় অনেকের। ভাবলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ময়লা, নোংরা, স্যাঁতস্যাঁতে দুর্গন্ধযুক্ত কোনো ওয়ার্ডের ছবি। কিন্তু এই ধারণা পাল্টে দিয়েছে উখিয়া উপজেলা স্ব্যাস্থ্য কমপ্লেক্স। কক্সবাজার বায়তুশ শরফ হাসপাতালের পরিচালনায় অরবিস ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সহযোগিতায় উখিয়ার মানুষ পাচ্ছেন নিয়মিত চক্ষু সেবা। এই সরকারি হাসপাতালে মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা, চক্ষু সেবা থেকে শুরু করে মুমূর্ষু রোগীর জন্য যা যা প্রয়োজন, তার সব কিছু রয়েছে এই হাসপাতালটিতে। যুগ যুগ ধরে এই হাসপাতালটিও ছিল দেশের অন্যান্য হাসপাতালের মতো। উখিয়াতে রোহিঙ্গা আসার সুবাধে পাল্টে যেতে থাকে হাসপাতালের পুরো চেহারা। চকচকে সুন্দর, মনোরম পরিবেশ, ডাক্তারদের অমায়িক ব্যবহার অত্যাধুনিক মানের মা ও শিশু হাসপাতাল চক্ষু সেবাসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার সু ব্যবস্থাপনায় উখিয়ার মানুষ পাচ্ছে কাঙ্কিত স্বাস্থ্য সেবা। অন্যসব সরকারি হাসপাতালের মতো এই হাসপাতালেও রোগীকে প্রথমে ৩ টাকার টিকিট কাটতে হয়। রোগীকে বিনামূল্যে দেয়া হয় চোখের ওষুধ। সরেজমিন হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, পুরো হাসপাতালের অন্যান্য ওয়ার্ডের চেয়ে এটি ব্যতিক্রম একটি ওয়ার্ড, অটোলকড কাঁচের দরজা।নিমানিশু হাসপাতালের ভেতরে দাঁড়িয়ে আছেন একজন বয়স্ক লোক। রোগীদের দেখে তিনি প্রথমে দাঁড়িয়ে সালাম দেন। তারপর যত্নসহকারে তাদের ভেতরে আসার এবং বসার ব্যবস্থা করে দেন। গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকতেই লম্বা লরিতে রয়েছে রোগীদের বসার ব্যবস্থা। নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলায় চোখের ডাক্তার দেখাতে গেলেন এনজিও কর্মী বুলবুল আক্তার। তিনি দীর্ঘদিন ধরে চোখ দিয়ে পানি পড়ার যন্ত্রণায় ভোগছেন। ডাক্তার দেখিয়ে বেরিয়ে এলে কথা হয় তার সাথে। তিনি বলেন, আমার বড় ছেলে শেখ নাজমুল কাদের ও মেয়ে নাবিলা কাদের লিজাকেও এখানে চক্ষু ডাক্তারকে দেখানো হয়েছে। ডাক্তার অত্যন্ত যত্নসহকারে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। মরিচ্যা বাজার এলাকার তছলিমা বলেন, আমি সন্তান সম্ভাবা। কম্পিউটার চেকআপ করতে এখানে এসেছি। শুধুমাত্র দুইশত বিশ টাকায় এখানে গর্ভবতী মায়েরা কম্পিউটার চেকআপ করতে পারছে। এখানে এই ব্যবস্থা না থাকলে কক্সবাজার গিয়ে এক হাজার টাকা দিয়ে করতে হতো। তাছাড়া গাড়িভাড়াসহ নানা ঝামেলা পোহাতে হতো। উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চক্ষু ডাক্তার অপটোমেট্রিস্ট মোহাম্মদ তাসনিম সাদিদ বলেন, এখানে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ জন পর্যন্ত রোগী আসেন। তাদেরকে ফ্রি দেখা ও সেবা দিয়ে থাকি। প্রয়োজনে অপারেশনের ব্যবস্থাও করা হয়ে থাকে। আমরা আমাদের সাধ্যমত রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।