হুমায়ুন কবির জুশান,উখিয়া নিউজ ডটকম::
নিতান্তই প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না লোকজন। স্টেশনে প্রচণ্ড গাড়ির জ্যাম। ধুলোবালুতে একাকার উখিয়ার। বায়ু দূষণে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে অ্যাজমা, শ্বাসতন্ত্রে জটিল সংক্রমণ (সিওপিডি) ও অ্যাকিউট রেসপারেটরি ইনজেকশনসহ (এআরআই)শ্বাসতন্ত্রের নানা ধরণের সমস্যা। বায়ুদূষণের প্রভাবে এমন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমারজেন্সি সূত্রে জানা যায়,২০১৫ সালে বিভিন্ন ধরনের অ্যাজমায় সারা দেশে আক্রান্ত হন ৩৩২৬ জন, মৃত্যু হয় ৫৬ জনের। ২০১৬ সালে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ২২ হাজার ৮৩ জন এবং ১০৯ জন। ২০১৭ সালে আক্রান্ত ছিল ৬৩ হাজার ৬০৮ জন এবং মৃত্যু ৩২৮ জনের, ২০১৮ সালে এ সংখ্যা ছিল ৭৭ হাজার ৭২২ জন এবং মৃত্যু ৬১৪ জন। এ বছর এখন পর্যন্ত আক্রান্ত রোগী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৮ হাজার ৮০৬ জনে এবং মৃত্যু হয়েছে ৫৮৮ জনের। অন্য দিকে ২০১৫ সালে সিওপিডিতে আক্রান্ত হন মাত্র ১৬১০ জন এবং মৃত্যু হয় ২০৬ জন। ২০১৭ সালে আক্রান্ত ৩২ হাজার ৪০৮ জন এবং মৃত্যু ৬৮৫ জন। ২০১৮ সালে আক্রান্ত ৭৭ হাজার ৭২২ জন এবং মৃত্যু ৬১৪ জন। এ বছর এখন পর্যন্ত সিওপিডিতে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে, ৭৮ হাজার ৮০৬ জন এবং মৃত্যু ৬১৪ জন। এনজিও সংস্থা পরিচালিত এম এস এফ হাসপাতালে সেবা নিতে আসা গৃহিণী ফারজানা আক্তার সাথী বলেন, ইদানীং শ্বাসকষ্ট এত বেড়েছে বলার বাইরে। প্রতিদিন শিশুদের স্কুলে আনা-নেয়া করি, হাটবাজারে যাই আর সারা দিন তো বাসাতেই। এর পরও এই অবস্থা। পরিকল্পিত উখিয়া চাই এর আহ্বায়ক সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ সিকদার বলেন, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর থেকে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এই উখিয়ায় বের হতেই মাস্ক ব্যবহার করেও টিকতে পারি না।
ডাক্তার মোহাম্মদ ইসমাঈল জানান, রোগীর সেবা প্রদান আমাদের কাজ। কিন্তু উখিয়ার সামগ্রিক পরিবেশ স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। বায়ুদূষণের বিষয়ে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কাউকেই উখিয়ায় দেখা যায়নি। উখিয়ার স্থানীয় সুশীলসমাজ বলছেন, বায়ুদূষণজনিত কারণে মানুষের শ্বাসনালীগুলো অনেক সংকুচিত হয়ে মারাতানক আকার ধারণ করে। এআরআই হলো শ্বাসযন্ত্রের ইনফেকশন। এগুলো থেকে হতে পারে ফুসফুস ক্যান্সারের মতো প্রাণঘাতি রোগ।
ডাক্তার মোহাম্মদ আয়াস সিকদার বলেন, বায়ুদূষণ উখিয়ার নতুন সমস্যা। আগে এমনটি ছিল না। এটা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া দরকার। রোহিঙ্গাদের কারণে উখিয়া-টেকনাফ সড়কে অতিরিক্ত যানবাহন চলছে। গাড়ির কালো ধোঁয়া, সনাতনী ইটভাটা, উন্নয়ন কাজের নামে অপরিকল্পিতভাবে সারা বছর রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, ভবন নির্মাণ সামগ্রীÑ এসবের ওপর যদি কড়াকড়ি নজন না দেয়া হয়, কখনোই উখিয়ার বায়ুদূষণমুক্ত হবে না।