কক্সবাজার প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালী হাকিম পাড়া গ্রামে মোবাইল চুরির অভিযোগ এনে ২ যুবককে গাছের সাথে রশি দিয়ে বেঁধে নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে৷ যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে৷
নির্যাতনকারী (১) জাহাঙ্গীর আলম (৩৫) পিতা- মফিজ উদ্দিন চৌধুরী, (২) আব্দু সালাম (৩৮) পিতা- মৃত নজু মিয়া, দুই জনই ৫নং ওয়ার্ড হাকিম পাড়া এলাকার বাসিন্দা৷
নির্যাতনের শিকার (১) আবছার (২৫) আবুল কাসেম এর ছেলে, (২) নয়ন পিতা শাহ আলম দুই জনই হাকিম পাড়া এলাকার বাসিন্দা৷
গত বুধবার (১৪ জুলাই) বিকেল ৩টার সময় এ ঘটনা ঘটে৷
স্থানীয় এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, গত দুই সপ্তাহ আগে পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সের পিছনের রাস্তা থেকে নির্যাতন কারী জাহাঙ্গীর ও আবদুস সালাম অজ্ঞাত ইয়াবা ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১৪০০০ পিচ ইয়াবা কেড়ে নেয়৷ ইয়াবা কেড়ে নেওয়ার দৃশ্যটি নির্যাতনের শিকার (১) আবছার (২৫) আবুল কাসেম এর ছেলে, (২) নয়ন পিতা শাহ আলম দেখে এলাকার জনসম্মুখে প্রকাশ করলে, এলাকায় সর্বস্তরে তুলপাড় সৃষ্টি হয়৷ পরে
ইয়াবালুটকারী জাহাংগীর ও আবদুস সালাম তাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় বুধবার ১৪ জুলাই বিকেল ৩টার দিকে নির্যাতনকারী (২) আব্দুস সালাম এর বাড়ির ওঠানে রশি দিয়ে গাছের সাথে বেঁধে বর্বর নির্যাতন চালায়।
তিনি আরো জানান, নির্যাতনকারী (১) জাহাঙ্গীর (৩৫) পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. গফুর উদ্দিন চৌধুরীর বড় ভাই মুফিজ উদ্দিন চৌধুরীর ছেলে৷
নির্যাতনের শিকার (১) আবছার (২৫) ও নয়ন কে গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতন করতে করতে এক পর্যায়ে মাটিতে পড়ে গেলে, (১) নির্যাতনকারী জাহাঙ্গীর এর পিতা মুফিজ উদ্দীন চৌধুরী ঘটনাস্থলে আসে এবং মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে থাকা আবসারের কপালে লাথি মারে। এক পর্যায়ে তার নেতৃত্বে নির্যাতিত অসহায় দুই যুবকের নিকট কোন অভিযোগ না করার মর্মে স্টাম্পে সই নেয় এবং অভিযোগ করলে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের হুমকি দেয় বলেও জানান প্রত্যক্ষদর্শী।
এ বিষয়ে পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম. গফুর উদ্দিন চৌধুরীর বলেন, নির্যাতনের ঘটনা আমি শুনেছি ও অনেকে ফেসবুকে ভিডিও দেখেছেন বলে আমাকে জানাইছেন। আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাচ্ছি৷
ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আহমদ সঞ্জুর মোরশেদ জানান, আমরা বিষয়টি এখনো অবগত নয়, অভিযোগ আসলে সাথে সাথে ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷
কক্সবাজার পুলিশ সুপার মোঃ হাসানুজ্জামানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে কথা সম্ভব হয়নি৷