উখিয়া প্রতিনিধি::
উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের করইবনিয়া কবরস্থান সংলগ্ন প্রভাবশালীরা দলীয় পরিচয়ে বনভুমি দখল করে গৃহ নির্মাণে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে দীর্ঘদিনের দখলীয় প্রকৃত মালিকেরা আদালতের জবরদখলদারদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। মঙ্গলবার মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উখিয়া থানার এসআই নুরুল হক।

জানা যায়, পূর্বডিগলিয়াপালং গ্রামের ফরিদুল আলম, জানে আলম গং উক্ত পাহাড়ের উত্তরে, আজিজুর রহমান, ছেহের আলী, মীর আহমদ দক্ষিণেউক্ত জায়গাটি স্বাধীনতার পরবর্তী সময় থেকে ভোগদখল করে আসছিল। কিন্তু ২০০৯ সালে সরকার দলের ক্ষমতা দেখিয়ে বাইরের কিছু লোকজন তা জবর দখল করে নেয়।এরপর থেকে ক্ষতিগ্রস্থ প্রকৃত মালিকেরা সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করলেও কোন কাজ হয়নি। কিন্তু সম্প্রতি জবর দখলকারী বনভূমি এসব জায়গা প্লট আকারে বিক্রি শুরু করেছে। বনবিভাগ বিষয়টি জানলেও না জানার ভান করে আছে বলে মালিক ফরিদ জানান।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে জানায় করইবনিয়া কবরস্থান সংলগ্ন বাগানের পাহাড়টা ৪০/৪৫ বছর ধরে মরহুম আজিজুর রহমান ও মীর আহমদ এবং চেহের আলীর ঝুম চাষ ও ঘরবাড়ি ছিল ছিল।
কিন্তু গায়ের জোরে আমাদের দখলীয় পাহাড় গুলো সামাজিক বনায়নের নামে দখল করেন।
তখন আমরা বাধা দিলে তারা বলে ঠিক আছে বাগান কেটে তোমাদের জায়গা তোমাদেরকে বুঝিয়ে দেব। কিন্তু এখন জায়গার দাম বাড়ায় বাগান কাটার পর ও জায়গা ছেড়ে না দিয়ে অন্যত্র বিক্রি করে নতুন নতুন ঘর বাড়ি তৈরি করছে। ফলে একদিকে যেমন সরকার মালিকানাধীন পাহাড় বেচা বিক্রির হিড়িক পড়েছে অন্যদিকে অসহায়, পূর্বদখলদারেরা হারাচ্ছে তাদের ভিটেমাটি।
ভুক্তভোগীরা, ইউএনও, উখিয়া থানা প্রশাসন, বন বিভাগের কর্মকর্তা ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এর সুদৃষ্টি কামনা করেন।
রাজাপালং ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জনাব আব্দুর রহিম এর সাথে যোগাযোগ করা হলে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,বাগানের পাহাড়ে নতুন কিছু ঘরবাড়ি হচ্ছে বলে খবর পেয়েছি। ইতিপূর্বে পাহাড়ে তাদের কোনো ঘরবাড়ি ও দখল ছিল না।
এ ব্যাপারে উখিয়া বনরেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, উক্ত বনভূমিতে সরকারি ভাবে বনায়ন সৃজন করার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট তালিকা প্রেরণ করা হয়েছে। অনুমোদন হয়ে আসলে শ্রীঘ্রই তা বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ নুরুল হকের নিকট এ ব্যাপারে জানতে চাইলে, তার মুঠোফোনে সংযোগ না যাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।