হুমায়ুন কবির জুশান, উখিয়া ::
ঘরে ঘঘরে দেখা দিচ্ছে জ্বর-সর্দি কাশি। কারো কারো হালকা গলাব্যাথা। শিশু বৃদ্ধ মাঝ বয়সী কমবেশি সবাই আক্রান্ত হচ্ছেন। কারো হালকা জ্বর এসে কমে যাচ্ছে। কারো জ্বরের তীব্রতা বেশি। জ্বরের সঙ্গে কারো কারো সর্দি কাশি। কাশি বেশ কয়েকদিন ভোগাচ্ছেও। ডাক্তাররা বিভিন্ন পরীক্ষা দিচ্ছেন। পরীক্ষা করলে কারো ডেঙ্গু, কারো করোনা কোনোটাই না। তবে এই সংখ্যাই অনেক বেশি। সাধারণ জ্বর। বেশ কিছুদিন ধরে আবহাওয়ার পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এই গরম এই ঠান্ডা। এই রোদ এই বৃষ্টি। ডাক্তাররা বলছেন, আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে জ্বর সর্দি কাশিতে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। ডাক্তার আফিয়া জান্নাত বলেন, দেশে করোনা এবং ডেঙ্গুও রয়েছে। তাই কারো জ্বর বেশি হলে
ডেঙ্গু করোনা বা সিজনাল জ্বর ধরে নিয়ে বসে থাকা যাবে না। জ্বর ১০০ ডিগ্রী হলেই পরীক্ষা করিয়ে নিশ্চিত হতে হবে ডেঙ্গু বা করোনা কিনা। যদি অল্পে জ্বর কমে যায়, তাহলে ভয়ের কিছু নেই। পরীক্ষার শুরুতেডেঙ্গু করোনা ধরা পড়লেও ঝুকিঁ অনেক কম। উখিয়া সদর এলাকার বাসিন্দা আসমা বলেন, প্রথমে আমার মেয়ের জ্বর আসে। তার একদিন পর আমারও জ্বর আসে। আমার তিনদিন পরেই কমে যায়। ডেঙ্গু ও করোনা পরীক্ষা করানো হয়েছে। এখন অনেকটা ভাল আছি। কিন্তু মেয়ের জ্বর কমে গেলেও সর্দি কাশি এখনও রয়ে গেছে। ওষুদের দোকান থেকে ওষুধ কিনে খাওয়াচ্ছি। হলদিয়া পালং ইউনিয়নের গোরাইয়ারদ্বীপ এলাকার বুলু আক্তার বলেন, তার ছেলের জ্বর, কাশি ও সর্দি হয়েছে। ভাবছিলাম পরীক্ষা করাতে যাব, তার মধ্যে দেখলাম একটু কম পড়েছে।। তাই যায়নি। তাছাড়া পরীক্ষা করাতে যাওয়া টাকারও ব্যাপার আছে। গেলেই তো হবে না, ডাক্তার দেখাতে হবে। দুই তিন দিন দৌড়া দৌড়ি করতে হবে। অনেক টাকার ব্যাপার। তাই অপেক্ষা করছিলাম, দোকানের ওষুধ খেয়ে কমে কিনা। উখিয়া প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিনিয়র সাংবাদিক ফারুক আহমদ বলেন, আমি পেশাগত দায়িত্ব পালনে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে ফিরে হঠাৎ গায়ে জ্বর ও শরীরে ব্যাথা অনুভব করছি। ইতিপূর্বে করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এখন জ্বরে আক্রান্ত হয়েছি। সর্দি আসেনি। হালকা গলাব্যাথা মনে হচ্ছিল। জ্বর আমাকে ভুগিয়েছে। ডাক্তার রাজিব বলেন, জ্বরে খুসখুসে কাশি হলেই আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। জ্বর, গলা খুসখুস করা মানেই করোনা নয় বা তীব্র জ্বর মানেই ডেঙ্গু নয়। মৌসুমি জ্বরের পরেও বেশ কয়েকদিন সর্দি কাশি দুর্বলতা থাকে। তবে নিজে নিজে চিকিৎসা করা যাবে না। অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে দেখা গেছে, এম,এস,এফ হাসপাতালে রোহিঙ্গা নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের লম্বা লাইন। রোহিঙ্গা নারী নুর কায়দা বলেন, আমার মেয়ে নুর আয়েশা তিন দিন ধরে অসুস্থ। তাই এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। প্রচন্ড জ্বর ও সর্দি, কাশি রয়েছে। ডাক্তার বিভিন্ন পরীক্ষা করে ওষুধ দিয়েছে। রোহিঙ্গা মাঝি জিয়াবুর রহমান বলেন, হঠাৎ করে ক্যাম্পে ঘরে ঘরে জ্বর, কাশি ও সর্দি শুরু হয়েছে। আমার বাড়িতেও তিন জন অসুস্থ।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত ডাক্তার ফারহানা ইয়াছমিন জানান, সময়ের পালাবদলে প্রতি বছরই জ্বর, সর্দি কাশি বেড়ে যায়। এবারও তাই হয়েছে। কিন্তু আতঙ্কিত হওয়ার কিছুই নেই। তাই বলে অবহেলা করা যাবে না। কারণ, আপনি সাধারণ জ্বর মনে করে বসে রইলেই কিন্তু আপনার সাধারণ জ্বর না। তাহলে তো বিপদ হয়ে যাবে। তাই জ্বর আসার সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের অন্যান্যদের থেকে নিজেকে আলাদা করতে হবে। তারপর চিকিৎসা। তিনি আরও বলেন, আপনি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলেন, হয়তো দুইটি পরীক্ষষা করতে হতে পারে। চিকিৎসক দুইটি পরীক্ষা দিতে পারেন। কিন্তু আপনি শুরুতেই চিকিৎসকের কাছে গেলে ঝুঁকিটা আর থাকলো না বা তুলনা মূলক কম ঝুঁকি রইল। পরীক্ষার রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত অন্যান্যদের আলাদা থাকতে হবে। বেশি করে তরল খাবার খেতে হবে। জ্বর আসলে পানিতে কিছু ভিজিয়ে ঘন ঘন গা মোছাতে হবে। কারণ, জ্বর বাস্প হয়ে শরীরের পানি উড়ে যায়। তাই বেশি করে তরল খাবার খাওয়ার পরামর্শ থাকছে।