ডেস্ক রিপোর্ট::
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রামের এক ইয়াবা কারবারির ভাইয়ের জমকালো বিয়ের আয়োজনের ঘটনায় উখিয়ার সর্বত্র তোলপাড় চলছে। উখিয়া থানার ওসি আহমেদ সঞ্জুর মোরশেদ বিষয়টি না জানার কথা বললেও এলাকাবাসী বলছেন,কোটি টাকা ব্যায়ে চিস্থিত ইয়াবা কারবারির জমকালো বিয়ের বিষয়টি একাধিকবার উখিয়া থানার ওসিকে বলা হয়েছে। এমনকি তিন দিনের নাচ-গানের আসর চলার বিষয়টি উখিয়া থানার ওসিকে ফোনে অবহিত করা হলেও ওসি কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।
এ ব্যাপারে স্থানীয় বাসিন্দা অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ বলেন, আমি নিজে বিষয়টি উখিয়া থানার ওসিকে অবহিত করেছি এবং অনুরোধ করেছি তিন দিনব্যাপী চলা নাচ-গানের আসরে এলাকায় ব্যাপক শব্দ দূষণ হচ্ছে আপনি একটু ব্যবস্থা নিন। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি ।
জানা গেছে,সীমান্তের দুর্গম এলাকা উখিয়া উপজেলার রত্না পালং ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের করইবনিয়া গ্রামের ইকবাল নামের ওই ইয়াবা কারবারির বাড়ির বিয়ে অনুষ্ঠানটি নিয়ে সীমান্ত এলাকায় এখনও তোলপাড় চলছে। জাতীয় পত্রিকা সহ স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোতে বিষয়টি ফলাও করে প্রচার হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। ইয়াবা পাচারকারী চক্রও বিষয়টি ধামাচাপা দিতে উঠে পড়ে লেগেছে। তারা এ নিয়ে দেন দরবার চালাচ্ছে বিভিন্ন মহলে।
এলাকাবাসী জানিয়েছে,গত শুক্রবার (২২ জানুয়ারি) রাতের বিয়ে বাড়ির অনুষ্ঠানটি গেট থেকে স্টেজ পর্যন্ত কেবল ডেকোরেশনের সাজ-সজ্জায় ব্যয় করা হয়েছে ৫/৬ লাখ টাকা। বিয়ে অনুষ্ঠানে রাতভর চলেছে গানের অনুষ্ঠান। সেই গানের অনুষ্ঠানে শিল্পীদের মাঝে ইয়াবা কারবারি ইকবালের পক্ষে ছিটানো হয়েছে ৫০০ ও এক হাজার টাকার অগণিত সংখ্যক নোট। বিয়ে বাড়ির অনুষ্ঠানটিতে উপহার হিসাবে পাওয়া গেছে ১০টি গরু, ২৪টি ছাগল ও আনুষাঙ্গিক অন্যান্য জিনিষ। বিয়ে বাড়ির মাইক দিয়ে এলাকার লোকজনকে খাবারের দাওয়াতও দেওয়া হয়।
বিয়ের অনুষ্ঠানটি হয়েছে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আলী আহমদের বাড়িতে। আলী আহমদের জ্যেষ্ঠপুত্র মোহাম্মদ ইকবালের বিরুদ্ধেই রয়েছে ইয়াবা কারবারের অভিযোগ। ইকবাল একাধিকবার ইয়াবাসহ ধরা পড়ে কারাবরণও করেছেন। তার বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় কয়েকটি মামলা রয়েছে।
উখিয়ার রাজা পালং ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আলী হোসেন খান বলেন, ইকবাল বাস্তবে ভাইয়ের বিয়ের জমকালো অনুষ্ঠানের নামে কোটি কোটি টাকার ইয়াবা দেশের অভ্যন্তরে পাচার করার জন্যই এরকম আয়োজনটি করেছিল। সেই অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক যান বাহনের আনাগোনা তিনি প্রত্যক্ষ করে বলেন, সবগুলোতেই ইয়াবা পাচার হয়েছে।