
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বালুখালী ক্যাম্প-৮ ওয়েস্টের বি ব্লকের হেড মাঝি এনায়েত উল্লাহর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ঘর নির্মাণ ও বরাদ্দে অর্থ আদায়, বিচার-সালিশে টাকা নেওয়া এবং সাধারণ রোহিঙ্গাদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ক্যাম্পের একাধিক বাসিন্দা এসব অভিযোগ করেছেন এবং তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এনায়েত উল্লাহর বিরুদ্ধে অন্তত ২০টির বেশি লিখিত অভিযোগ ক্যাম্প ইনচার্জ (সিআইসি) কার্যালয় এবং ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারীরা জানান, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, নতুন ঘর নির্মাণ, পুরোনো ঘর সংস্কার এবং প্রশাসনিক কাজে সহায়তার জন্য মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয়। কেউ ঘর নির্মাণ করতে চাইলে প্রায় ২০ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তি এবং বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রেও অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের নাম বিভিন্ন তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, গত ২২ জুলাই ২০২৬ তারিখে সনজিদা ও মরিয়ম খাতুন নামে দুই রোহিঙ্গা নারী ক্যাম্প ইনচার্জের কাছে একটি লিখিত আবেদন জমা দেন। আবেদনে তারা সিআইসি কার্যালয়ের এক ডকুমেন্টেশন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ দাবি এবং ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করেন।
হেড মাঝি এনায়েত উল্লাহ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। ক্যাম্প ইনচার্জ (সিআইসি) রিন্টু বিকাশ চাকমা জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুক্তভোগীরা তদন্ত ও সুশাসনের দাবি জানিয়েছেন।