কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের উত্তর সোনারপাড়া এলাকায় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার নামে ঝাউবন দখল ও পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগ উঠেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এফআইভিডিবি’র বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মানবিক কার্যক্রমের আড়ালে সরকারি জমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের পথ তৈরি করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উত্তর সোনারপাড়া সৈকতসংলগ্ন ঝাউবনের ভেতরে সরকারি জমি দখল করে গাছ কেটে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে “লার্নিং সেন্টার সৈকত” নামে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে সংস্থাটি। স্থানীয়দের দাবি, পরিবেশ সংরক্ষিত এলাকায় এমন স্থাপনা নির্মাণ সম্পূর্ণ বেআইনি এবং এতে ঝাউবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ঝাউবন উজাড় করে নির্মিত এসব স্থাপনার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্প দেখিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের হিসাব দেখানো হচ্ছে। অথচ সরকারি অনুমোদন, পরিবেশগত ছাড়পত্র কিংবা জমি ব্যবহারের বৈধ কাগজপত্র নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, একদিকে উপকূলীয় ঝাউবন প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে মানুষকে সুরক্ষা দেয়, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সেখানে শিক্ষা কার্যক্রমের নামে বনভূমি দখল কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এ বিষয়ে জানতে এফআইভিডিবির কক্সবাজার কার্যালয়ের হেড অব প্রোগ্রাম মহিউদ্দিন সরদারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলে চায়ের দাওয়াত দিয়ে প্রতিবেদককে কার্যালয়ে আমন্ত্রণ জানিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন এ কর্মকর্তা।”
ঝাউবন দখল করে লার্নিং সেন্টার স্থাপনের বিষয়ে অবগত নয় বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আসমা।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে সরকারি জমি দখলমুক্ত করা, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তথ্যসূত্র, কক্সবাজার জার্নাল