
কক্সবাজারের উখিয়া সদরের দারোগা বাজার কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানের সীমানাপ্রাচীরের প্রায় ১৫ ফুট অংশ রাতের আঁধারে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে শ্মশানের দক্ষিণ পাশে এ ঘটনা ঘটে বলে শ্মশান ভৈরব ও দুর্গা মন্দির উন্নয়ন এবং পরিচালনা পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এতে আসন্ন দুর্গাপূজা নিয়ে স্থানীয় সনাতনী সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
শ্মশান পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মৃদুল আইচের দাবি, অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জন ব্যক্তি শ্মশানের দক্ষিণ পাশের সীমানাপ্রাচীরের মধ্যমাংশের প্রায় ১৫ ফুট ভেঙে দেন। এতে আনুমানিক দেড় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
ঘটনার পর ১৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান এবং ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টায় ইউএনও পান্না আক্তার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তাঁরা ভাঙচুর করা অংশ ও শ্মশান ভূমি পরিদর্শন করেন।
পরিচালনা পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দ্রুত ভাঙচুর করা অংশ পুনর্নির্মাণ করা না হলে নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কায় উখিয়া সদরের দুর্গাপূজা উদযাপন স্থগিতের বিষয়ে সামাজিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে দুর্গাপূজা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক রতন কান্তি দে বলেন, সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয় সনাতনী সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘দুর্বল ও আতঙ্কিত মানুষের আশ্রয়স্থল থেকে যখন ভরসা ও আশার কথা মুছে যায়, তখন হতাশা তৈরি হয়।’ নিজেদের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্য হিসেবে জন্ম নেওয়ায় তাঁরা নিজেদের অভিশপ্ত মনে করছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পরিষদের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ওসি নিরপেক্ষতা বজায় না রেখে দুর্বৃত্তদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেও হিন্দু সম্প্রদায়কে দুর্গাপূজা আয়োজন ও সম্পন্ন করতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি আতিকুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। ফেসবুকে ঘটনা সম্পর্কে জানতে পেরেই ঘটনাস্থলে চলে যাই। দুর্গাপূজা শেষ না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষকে স্ব স্ব অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পূজার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য, ইউএনও, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বৈঠক করে বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে।’