কক্সবাজারের উখিয়ায় র্যাব-১৫ এর বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রির নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় নারীসহ দুইজন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হলেও মূল হোতা তিনজন পলাতক রয়েছে। অভিযানে ইয়াবার পাশাপাশি নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও পাসপোর্ট জব্দ করা হয়, যা সিন্ডিকেটভিত্তিক এই কারবারিদের ভয়ঙ্কর বিস্তারকে আরও স্পষ্ট করেছে।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি অভিনব কৌশল অবলম্বন করে মাদক ব্যবসায়ীরা কক্সবাজার ও পার্শ্ববর্তী জেলায় ইয়াবা মজুদ রেখে পাচার করছে এমন গোপন তথ্য হাতে আসে। ওই তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়িয়ে শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সিপিএসসি, র্যাব-১৫ এর একটি চৌকস দল অভিযান চালায়। অভিযানকালে জানা যায়, উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং পশ্চিমপাড়া এলাকায় সাদ্দাম হোসেন, মহিউদ্দিন ও হেলাল উদ্দিনের বসতবাড়িতে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা মজুদ রয়েছে। র্যাব ঘটনাস্থলে পৌঁছালে মাদক কারবারিরা পালানোর চেষ্টা করে। এসময় দুই নারী মাহমুদা খাতুন (৫৯) ও সাজেদা বেগম সাজু (১৯) কে হাতেনাতে আটক করা হলেও মূল তিন কারবারি সাদ্দাম, মহিউদ্দিন ও হেলাল উদ্দিন পালিয়ে যায়।
পরে আটককৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাদের বসতবাড়ি তল্লাশি চালিয়ে ৮৯ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ইয়াবা বিক্রয়লব্ধ ১৬ লাখ ৭১ হাজার ৮৩০ টাকা, তিনটি এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও দুটি পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা স্বীকার করেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে টেকনাফ সীমান্ত থেকে ইয়াবা এনে কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করে আসছিল।
মূল ইয়াবা সিন্ডিকেটের হোতা
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, সাদ্দাম, মহিউদ্দিন ও হেলাল উদ্দিন শুধু স্থানীয় পর্যায়ের কারবারি নন, বরং দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা ক্যাম্প কেন্দ্রিক ইয়াবা সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত থেকে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন স্থানে তারা হোটেল ও স্থাবর সম্পত্তি কিনেছেন। এই সিন্ডিকেটের মূল ইয়াবা সরবরাহকারী হচ্ছে রোহিঙ্গা নাগরিক অলি আহমদ। ২০১৭ সালে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে কুতুপালং লম্বাশিয়ায় এখলাস নামের এক ব্যক্তির মেয়েকে বিয়ে করে সে এখানে স্থায়ী হয়।
এরপর অলি আহমদ স্থানীয় শীর্ষ মাদক কারবারী ইমাম হোসেনের ছেলে আবুল হাসেম এবং রিয়াজুল হকের ছেলে একরামের মাধ্যমে কুতুপালং পশ্চিমপাড়ায় জমি কিনে বহুতল ফ্ল্যাটবাড়ি নির্মাণ করে। এই বাড়িগুলো এখন ইয়াবা ব্যবসার নিরাপদ ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অলি আহমদ ও তার সহযোগীরা সীমান্ত থেকে সরাসরি ইয়াবা এনে উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন গডাউনে মজুদ করে, এরপর ছোট ছোট সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে দেয়।
র্যাব-১৫ সূত্রে জানা যায়, আটককৃত দুই নারী কারবারির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। একইসঙ্গে পলাতক সাদ্দাম, মহিউদ্দিন, হেলাল উদ্দিনসহ রোহিঙ্গা অলি আহমদ ও তাদের সহযোগীদের গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।